জ্বালানি কিনতে ভারতের কাছে ৫০ কোটি ডলার ঋণ চায় শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

নজিরবিহীন বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যে জ্বালানি তেলেরও ঘাটতি দেখা দিতে চলেছে শ্রীলঙ্কায়। এই সংকট কাটাতে এবার ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে দেশটি। পেট্রল ও ডিজেল কিনতে নয়াদিল্লির কাছে ৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে কলম্বো।

কিছুদিন আগে লঙ্কান জ্বালানিমন্ত্রী উদয়া গাম্মানপিলা জানিয়েছিলেন, বর্তমানে দেশটির যে পরিমাণ জ্বালানি নিশ্চয়তা রয়েছে, তাতে বড়জোর আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। এ অবস্থায় আসন্ন সংকট কাটাতে ভারতের কাছে ঋণ চেয়েছে কলম্বো।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থা সিলন পেট্রলিয়াম করপোরেশনের (সিপিসি) কাছে দেশটির প্রধান দুই সরকারি ব্যাংক- ব্যাংক অব সিলন ও পিপলস ব্যাংকের প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার পাওনা জমেছে।

সিপিসি চেয়ারম্যান সুমিত বিজেসিংহে লঙ্কান সংবাদমাধ্যম নিউজফার্স্টকে বলেছেন, ভারত-শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ব্যবস্থার অধীনে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে আমরা ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করছি। তিনি জানিয়েছেন, এই অর্থ কেবল পেট্রল ও ডিজেল পেতেই ব্যয় করা হবে।

লঙ্কান অর্থসচিব এস আর আত্তিগালে বলেছেন, ঋণের বিষয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে খুব শিগগিরই চুক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সই করবেন দুই দেশের জ্বালানি সচিবরা।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় বড় সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। ২০২০ সালে তাদের জিডিপি সংকুচিত হয়েছিল রেকর্ড ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এসময় দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ঘাটতি দেখা দেয়। ২০১৯ সালে যেখানে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল সাড়ে সাতশ কোটি ডলার, তা কমতে কমতে চলতি বছরের জুলাইয়ে এসে দাঁড়ায় মাত্র ২৮০ কোটি ডলারে। এরই মধ্যে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয় দেশটিতে।

এ অবস্থায় প্রতিবেশীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভোগা শ্রীলঙ্কাকে মোট ২০ কোটি ডলার দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া এই সাহায্য সরাসরি অনুদান কিংবা ঋণ নয়। ২০ কোটি ডলারের বদলে শ্রীলঙ্কা সমপরিমাণ রুপি বাংলাদেশকে দেবে। এর সঙ্গে কিছু সুদও পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটিকে বলা হয় ‘কারেন্সি সোয়াপ’ নীতি।

সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা

কেএএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]