ত্রিপুরায় দ্বাদশীতেও দেড়শর বেশি প্রতিমা বিসর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

আগরতলা সংবাদদাতা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় গত শুক্রবার থেকে চলছে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন। টানা চারদিন শারদোৎসবের আনন্দ শেষে বিষাদের সুরেই দেবীকে বিদায় জানাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিমা বিসর্জনে এগিয়ে আসছেন পূজা উদযাপন কমিটিগুলো। গতকাল শনিবার তিথি অনুযায়ী একাদশীর কারণে আগরতলার দশমিঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে মাত্র ২০টির মতো। তবে রোববার দ্বাদশীর দিনে ১৬০টির মতো প্রতিমা বিসর্জন হতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে।

প্রতি বছর প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পূজা শুরুর দিন থেকেই দশমিঘাটে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে রোববার দুপুরে দশমিঘাটে যান সদর মহকুমা শাসক অসীম সাহা। পরে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে দেন মহকুমার সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত চক্রবর্তীকে।

তিনি জানান, শুক্রবার বিজয়া দশমীর দিনে দশমিঘাটে দেড়শোর বেশি প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। পরদিন শনিবার তুলনামূলকভাবে সে সংখ্যা কম হলেও রোববার রাতের মধ্যে সংখ্যাটা দেড়শো ছাড়িয়ে যাবে।

এদিন সকাল থেকে তার নেতৃত্বেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ চলছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পর্যাপ্ত পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনীর পাশাপাশি এনডিআরএফ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনিবার দশমিঘাটে গিয়ে হাওড়া নদীতে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পর্ষদের এক বিশেষজ্ঞ ল্যাব টেকনেশিয়ান জানিয়েছেন, প্রতিমা বিসর্জনের আগে, বিসর্জনের সময় এবং পরে এভাবেই জলের দূষণ মাত্রা সংগ্রহ করে দেখা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি রিপোর্টই পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিশেষজ্ঞ ল্যাব টেকনেশিয়ান বলেন, শুধু হাওড়া নদীর পানি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৪টি স্থানে এভাবেই নমুনা সংগ্রহ করে পানির দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা হয়। যদিও দূষণ যাতে সেভাবে ছড়াতে না পারে এজন্য আগে থেকেই আগরতলা পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাফাই কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের পরই পানি থেকে তারা তুলে আনছে প্রতিমার কাঠামো থেকে শুরু করে যাবতীয় সাজ-সরঞ্জাম।

হিন্দুদের প্রধান উৎসব হলেও এ উৎসবের আনন্দে প্রতি বছরের মতো এবারও সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকেই শামিল হতে দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের মতো ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরায়ও এ চিত্র চোখে পড়েছে। উৎসবের একই আবহ ছিল বাংলাদেশেও।

এমকেআর/টিটিএন/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]