যাত্রীভর্তি ট্রেনে ধর্ষণের শিকার নারী, বাধা দিলো না কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১
প্রতীকী ছবি

যাত্রীভর্তি ট্রেনে ধর্ষণের শিকার হলেন এক নারী, কিন্তু তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলো না একটি মানুষও। অথচ তারা চাইলেই আটকাতে পারতেন নির্যাতনকারীকে। এমনকি কেউ যদি পুলিশের কাছে ফোন করতেন, তাহলেও হয়তো বীভৎস এ ঘটনা থামানো যেতো। কিন্তু কেউ কিছুই করলেন না, শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে গেলেন পুরো ঘটনা। সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত চিত্রই যেন তুলে ধরলো এই ঘটনা।

এটুকু পড়ে যদি ধরে নেন, তৃতীয় বিশ্বের কোনো অনুন্নত অনিরাপদ দেশে ঘটেছে এই ঘটনা, তাহলে ভুল করবেন। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে তথাকথিত ‘নিরাপদ দেশ’ যুক্তরাষ্ট্রে।

বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) পেনসিলভানিয়ার বৃহত্তম শহর ফিলাডেলফিয়ায় একটি কম্যুটার ট্রেনের ভেতর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ওই নারী। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আপার ডার্বি পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট টিমোথি বার্নহার্ড।

তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ৬৯তম স্ট্রিট টার্মিনালে পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকা হয়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা সাউথইস্টার্ন পেনসিলভানিয়া ট্রান্সপোর্টেশন অথোরিটির (সেপটা) এক কর্মী পুলিশে ফোন করে জানান, ট্রেনে এক নারী যাত্রীর সঙ্গে ‘অন্যায় কিছু হয়েছে’।

খবর পেয়ে সেপটা পুলিশ কর্মকর্তারা পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করতে থাকেন। ট্রেন সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে।

টিমোথি বার্নহার্ড ওই নির্যাতিতাকে ‘অবিশ্বাস্য শক্ত মনের নারী’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি পুলিশকে অনেক তথ্য দিয়েছেন। তবে আক্রমণকারী তার পরিচিত নয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি (ভুক্তভোগী) এখন চিকিৎসাধীন। আশা করি, এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।

ওই নারীকে নির্যাতনের পুরো দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আর তাতে দেখা গেছে, ঘটনার সময় ট্রেনটিতে আরও লোকজন ছিলেন।

বার্নহার্ড বলেন, সেখানে অনেক লোক ছিল। আমার মতে, তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল; অন্তত কারও কিছু করা উচিত ছিল। কিন্তু কেউ এগিয়ে না যাওয়ায় আফসোস করে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সমাজে কোথায় রয়েছি, এটি তা বলে দিচ্ছে; মানে আমি বলতে চাচ্ছি, কে এমন ঘটনা ঘটতে দেবে? এটি খুবই উদ্বেগজনক।

ডেলওয়ার কাউন্টি কোর্টের তথ্যমতে, এ ঘটনায় ফিস্টন এনগয় নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভয়ংকর হামলাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ট্রেনের ভেতর ধর্ষণের এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে সাউথইস্টার্ন পেনসিলভানিয়া ট্রান্সপোর্টেশন অথোরিটি। তারা বলেছে, ট্রেনে আরও লোক ছিল, যারা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন। তাদের কেউ ৯১১ নম্বরে (পুলিশি হেল্পলাইন) কল করলে ঘটনাটি দ্রুত আটকানো যেতো।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ভবিষ্যতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

কেএএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]