‘ভিক্ষা করতে চাই না, কলম কিনুন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১
ছবি : সংগৃহীত

দাঁতবিহীন একগাল হাসিতে নেই কোনো মলিনতা। হাতে একটা পিচবোর্ডের বাক্স। তার ঢাকনায় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা, ‘আমি ভিক্ষা করতে চাই না। দয়া করে ১০ রুপি দিয়ে নীল কলম কিনুন।’ সবার শেষে লেখা, ‘ধন্যবাদ, আমার আশীর্বাদ রইলো।’

অশীতিপর এ বৃদ্ধার দেখা মিলবে ভারতের পুনের এমজি রোডে। নাম রতন। শরীরে বয়সের চিহ্ন স্পষ্ট, তবু ক্লান্তি নেই। জীবিকার জন্য ‘১০ রুপির নীল কলম’ ভর্তি বাক্স নিয়ে হেঁটে বেড়ান সকাল থেকে সন্ধ্যা। আগ্রহীদের দেখলে থেমে একগাল হাসেন, এরপর কলম কেনার জন্য হয়তো অনুরোধ করেন। কিন্তু কখনোই জোরজবরদস্তি করেন না।

রতনের এই গুণে সম্প্রতি মুগ্ধ হন ভারতের এক নারী উদ্যোক্তা। কলম বিক্রেতা এ বৃদ্ধাকে দেখে তার মনে হয়েছে, এমন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষেরাই বাস্তবের নায়ক হওয়ার দাবিদার। তাই রতনের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার বিবরণ নিজের ইনস্টাগ্রামে সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন শিখা রাঠি নামে ওই নারী। এরপর দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় তার সেই পোস্ট।

একটি পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শিখা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আজ আমি বাস্তবের এক নায়ক ও সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের দেখা পেলাম- রতন।

এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিলাম। তখনই রতনের সঙ্গে দেখা হয় আমাদের। তার নোট পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমার বন্ধু একটি কলম কেনে। রতন এতে খুবই আনন্দিত হয়। আমরা তার চোখেমুখে কৃতজ্ঞতা ও উদারতা দেখতে পাচ্ছিলাম!

তিনি আমাদের ধন্যবাদ জানান। কিন্তু আরও কলম কেনার জন্য একবারের জন্যেও চাপ দেননি। সততার পাশাপাশি তার মিষ্টি হাসি, দয়ালু হৃদয় ও আনন্দময় ভাবভঙ্গিই আমাকে তার কাছ থেকে আরও কলম কিনতে বাধ্য করেছিল!

শুধু তার হাসি আর কৃতজ্ঞতা দেখেই আমার মন ভরে গেছে। তিনি বিখ্যাত ও শেয়ার হওয়ার যোগ্য, তাই এই পোস্ট!’

শেষে ওই নারী সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, ‘আপনারা যদি কখনো এমজি রোডে যান, দয়া করে রতনের সঙ্গে দেখা করে তার কাছ থেকে কলম কিনবেন। এতে রতনের তো ভালো লাগবেই, আমি নিশ্চিত আপনাদেরও ভালো লাগবে।’

শিখার ওই পোস্ট এরই মধ্যে বহুবার শেয়ার হয়েছে। বৃদ্ধার মর্যাদাবোধে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন অনেকে। রতনকে জীবনের অনুপ্রেরণা বলেও মন্তব্য করেছেন বহু মানুষ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]