শতাধিক বিক্ষোভকারীকে মুক্তির ‘নাটক’ মিয়ানমার জান্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১
১৮ অক্টোবর ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের বাইরে স্বজনদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেওয়ার নামে ‘নাটক’ করছে মিয়ানমার জান্তা। সম্প্রতি তারা কয়েক হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে বের হতে পারেননি অনেকেই। বরং কিছু বন্দিকে জেলগেট থেকেই নতুন অভিযোগ দিয়ে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষক সংগঠন। খবর এএফপির।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটি। সেখানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১০০ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) নামে একটি সংগঠন।

jagonews24১৮ অক্টোবর ইনসেইন কারাগারের বাইরে কান্নারত স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত

গত সোমবার (১৮ অক্টোবর) মিয়ানমার জান্তা জানিয়েছিল, তারা বৌদ্ধদের তিন দিনব্যাপী থাদিংযুত উৎসব চলাকালে পাঁচ হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এ খবরের পরপরই কারাগারগুলোতে ছুটে যান বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা।

জান্তা সরকার এখন পর্যন্ত ঠিক কতজনকে মুক্তি দিয়েছে, তার প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এএফপির খবর অনুসারে, কেবল আর কখনো জান্তার বিরোধিতা করবেন না এমন শর্ত দেওয়া দলিলে সই করার পরেই ছাড়া পেয়েছেন কয়েকজন।

jagonews24তিন আঙুল তুলে প্রতিবাদী চিহ্ন দেখাচ্ছেন এক বন্দি। ছবি: সংগৃহীত

এএপিপি জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তত ১১০ জনকে আবারও গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, কয়েকজন বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই ফের গ্রেফতার হয়েছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন জানিয়ে কিছু লোককে জেলগেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে বাড়তি অভিযোগ দায়ের করে তাদের আবারও কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গত জুনে দুই হাজারের বেশি অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিয়েছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ বহু মানুষ সেখানে আজও বন্দি।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]