মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক নৃশংসতার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২১

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই অঞ্চলে ব্যাপক হারে মানবাধিকার বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

সেখানে সেনাবাহিনী আগের মতো আবারও নৃশংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী। তারপর থেকেই মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রিুস জানিয়েছেন যে, দেশটির উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হাজার হাজার সেনা এবং ভারী অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামরিক সরকার মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই দূত বলেন, আমাদের এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। মিয়ানমারের এই অংশের জনগণের ওপর ব্যাপক নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। আমি খুব করে আশা করছি যে, আমি যেন ভুল প্রমাণিত হই। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের নৃশংসতা যেন না হয়।

স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে মিয়ানমারে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আটক হয়েছেন আরও ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ এবং নিরীহ মানুষের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। জীবন বাঁচাতে তখন লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

২০১৭ সালে রাখাইন থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সে সময় রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন, নিপীড়ন এবং হত্যার ঘটনাকে জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অর্থ, অস্ত্র এবং বৈধতা না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রুস।

টিটিএন/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]