ত্রিপুরায় বিরোধীদের মনোনয়ন দাখিলে শাসকদলের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২১

আগরতলা সংবাদদাতা

ভারতের ত্রিপুরায় শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসকের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছেন তারা। জেলাশাসকও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা (সিপিআইএম) কমিটির পক্ষ থেকে চিঠিতে জানানো হয়, জেলার মধ্যে মোট চারটি আরবান বডি রয়েছে। এর মধ্যে একটি আগরতলা পৌর নিগম, দুটি পৌরসভা যথাক্রমে রানীরবাজার ও মোহনপুর পৌরসভা ও একটি জিরানিয়া নগর পঞ্চায়েত।

সিপিআইএম পশ্চিম জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস বলেন, আগরতলা পৌর নিগমের ক্ষেত্রে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের মধ্যে যে ৩৫ জনের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে বুধবার তারা মনোনয়ন দাখিল করতে পারলেও জেলার অন্য কোথাও আর মনোনয়ন দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, পৌর নিগমের মতো মোহনপুর পৌরসভা, রানির বাজার পৌরসভা ও জিরানিয়া নগর পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে মনোনয়ন দাখিলের প্রস্তুতি নিয়েছিল বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। কিন্তু সে সময় তারা জানতে পারেন, রানিরবাজার, মোহনপুর ও জিরানিয়া প্রত্যেক জায়গায় বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত বাম ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবকারীদের ওপর হামলার জন্য জড়ো হয়েছে। তারা ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। পরে বৃহস্পতিবার জেলাশাসককে যে চিঠি দেওয়া হয় সেখানে প্রার্থীসহ প্রস্তাবকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

জেলাশাসকের কাছে এ ধরনের ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে এসে সিপিআইএম পশ্চিম জেলা সম্পাদক রতন দাস সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়েও অনুকূল পরিবেশ তৈরির আবেদন জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি এত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে যে, মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের কাছে নিয়ে যেতে আতঙ্কে ভুগছেন প্রার্থীরা। রাস্তায় শাসকদলের দুর্বৃত্তরা জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছে কখন প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন দাখিল করতে যাবেন।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, পূর্ব-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে আগে থেকেই এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু বুধবারের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ অবস্থায় ধর্মনগর থেকে সাব্রুম- কোথাও শাসকদলের পক্ষে নেই সাধারণ জনগণ। স্বাভাবিকভাবেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার একটা কৌশল নিতে শুরু করেছে তারা। আগেও এভাবে উপনির্বাচনগুলোতে মনোনয়ন দাখিলে বাধা দিয়ে এক ধরনের জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় আরবান বডিগুলো।

এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]