চাকরি পেতে অভিনব কৌশল তরুণের, পেলেন সফলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১

বর্তমান সময়ে একটি চাকরি পাওয়া সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে করোনার মহামারি শুরু হওয়ার পর। তাছাড়া চাকরি পেতে হলে প্রার্থীকে নানা নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। পাস করতে হয় লিখিত কিংবা ভাইভা পরীক্ষায়। অনেকে আবার একটি চাকরি পেতে হন দিশেহারা। জানেন না কোথায়, কীভাবে দিতে হবে নিজের বায়োডাটা।

চাকরি না পেয়ে অনেকই হন আত্মঘাতী। এমন পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি পেতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছেন যুক্তরাজ্যের এক তরুণ। পেয়েছেন সফলতা। দ্য মিররের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, হায়দার মালিক নামের ওই তরুণ নিজেরে বায়োডাটা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি ট্রেন স্টেশনে দাঁড়ানোর কয়েক দিনের মধ্যেই চাকরি পান ওই তরুণ। করোনা মহামারির শুরুর পর থেকেই একটি চাকরি খুঁজছিলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিং ও ফিন্যান্সে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েও তাকে চাকরির জন্য ঘুরতে হয়েছে নানা জায়গায়।

প্রথম দিকে জুমে কয়েকটি সাক্ষাতকার দেন তিনি। কিন্তু চাকরির সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে যান তিনি। এরপর ২ নভেম্বর ক্যানারি ওয়ার্ফের অর্থনৈতিক জেলায় চলে যান মালিক। সেখানে তার বাবার উৎসাহে স্টেশনারি দোকান থেকে একটি বোর্ড কিনেন। এটিতে তার বায়োডাটার কিউআর কোড লাগিয়ে দেন। যাতে চাকরি দাতারা তার বায়োডাটা ও লিঙ্কডইন প্রোফাইলে সহজেই প্রবেশ করতে পারে।

মালিক বলেন, প্রথম পাঁচ থেকে ১০ মিনিট আমি খুব টেনশনে ছিলাম। কারণ সেখানে আমি একদম খালি হাতে ছিলাম। আমার বায়োডাটাগুলো ব্যাগের মধ্যে ছিল। লোকজনকে আকৃষ্ট করার জন্যই খালি হাতে বোর্ডের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে থাকে। লোকজন আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে।

তরুণ বলেন, এরপর আমার বায়োডাটাটি হাতে নিলাম। সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। অনেকেই তাদের ভিজিটিং কার্ড, ফোন নাম্বার দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলা শুরু করলো। মজার বিষয় হলো ইমানুয়েল নামের একজন লিঙ্কডইন প্লাটফর্মে আমার এ ছবি পোস্ট দেওয়ার পরই ভাইরাল হয়ে যাই।

মালিক ট্রেন স্টেশনের কাছে বায়োডাটা নিয়ে দাঁড়ান সকাল সাতটার দিকে। সাড়ে নয়টার সময় এক কোম্পানি থেকে ভাইভা দেওয়ার জন্য মেসেজ পান। ওই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান তাকে মেসেজটি দেন। এরপর দ্বিতীয় ভাইভার পর তার চাকরি নিশ্চিত হয়। ভাইরাল হওয়ার পর টানা তিনদিন তার ফোন নিয়মিত বিরতিতে বাজতে থাকে।

এমএসএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]