পাকিস্তানে রাজস্ব আয়ের ৮৫ শতাংশই যায় দেনা মেটাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

গত অর্থবছরে আদায় করা প্রতি ১০০ রুপি রাজস্বের মধ্যে ৮৫ রুপিই বিদেশি ঋণ পরিশোধে খরচ করেছে পাকিস্তান। অর্থাৎ দেশটির প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন, ভর্তুকি, সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা, পেনশন সব অর্থই মেটানো হয়েছে বিদেশি ঋণ নিয়ে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদরা।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) পাকিস্তানি দৈনিক দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাকিস্তান প্রতি ১০০ রুপি রাজস্বে ৮৫ রুপি ব্যয় করেছে দেনা মেটাতে। সেখানে ভারতের ব্যয় হয়েছে ১০০তে ৫১ রুপি, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ২০’র কাছাকাছি মাত্র।

চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানের দশা আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন দেশটির খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড. আশফাক হাসান খান।

দ্য নিউজের খবর অনুসারে, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড (এফবিআর) ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪০০ কোটি রুপি রাজস্ব আদায় করে। জাতীয় অর্থ কমিশন (এনএফসি) পুরস্কারের অধীনে প্রদেশগুলোকে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ কোটি রুপি দেওয়ার পর সংস্থাটির হাতে থাকে ২ লাখ ২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি।

jagonews24

একই সময়ে ট্যাক্স বহির্ভূত রাজস্ব আসে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি রুপি। এ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের হাতে জমা পড়ে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। এই অর্থে সবচেয়ে বড় কামড়টি বসিয়ে ছিল বিদেশি ঋণের কিস্তি। এই খাতে পাকিস্তানের খরচ হয়েছে পুরো ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০ কোটি রুপি।
ফলে সবধরনের উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, বেতন-পেনশন ব্যয় মেটাতে দেশটির হাতে ছিল মাত্র ৭৫ হাজার ৪০০ কোটি রুপি। এতে বাধ্য হয়েই ফের বিদেশি ঋণের দিকে হাত বাড়াতে হয় পাকিস্তান সরকারকে। বাজেটের ঘাটতি পূরণে গত অর্থবছরে দেশটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছে, যা তাদের মোট জিডিপির ৭ দশমিক ১ শতাংশের সমান।

জানা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের মোট দেনার পরিমাণ ৫০ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (১ ট্রিলিয়ন=১ লাখ কোটি) রুপি পার হয়েছে। অথচ মাত্র সাড়ে তিন বছর আগেও পিটিআই যখন ক্ষমতায় বসে, তখনো দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন রুপি। অর্থাৎ ইমরান খানের শাসনামলে পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে অন্তত ২১ ট্রিলিয়ন রুপি, যা দেশটির ইতিহাসে তিন বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ।

পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. হাফিজ এ পাশার মতে, ভারতের ঋণের পরিমাণও ক্রমেই বাড়ছে। তবে তাদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর প্রতিবেদনে ভিন্ন পরিস্থিতি ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও ভারতীয় রাজ্যগুলো ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ঋণ নিয়েছে। তাই তাদের কেন্দ্রীয় ঋণে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের চাপ অনেক কম বলে উল্লেখ করেছেন এ অর্থনীতিবিদ।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]