৩৭ বছর পর স্বামীর ঘরে ফিরলেন হাটে হারিয়ে যাওয়া ভবানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ এএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১

হাতে শাঁখা, কপালে সিঁদুর। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর স্ত্রীকে নিজ চোখে দেখে আপ্লুত উমাপদ বাউরি। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন, ‘তুই শাঁখাটা এখনো রাখলি বউ!’ দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ বেদনার পর স্বামীকে দেখে কান্না চেপে রাখতে পারলেন না স্ত্রী ভবানী দেবীও।

রোববার (২৮ নভেম্বর) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালিতে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। হ্যাম রেডিও’র মাধ্যমে ৩৭ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে ফিরে পান উমাপদ বাউরি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, প্রায় ৩৭ বছর আগে কোনো এক বিকেলে হাটে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার কুমারদাগার বাসিন্দা ভবানী দেবী। সেই সময় অনেক খোঁজখবর করেও সন্ধান মেলেনি তার। ঘটনার ১৫ বছর পর স্ত্রীর মৃত্যুর সনদ হাতে পেয়েছিলেন উমাপদ। ঘরে দুই মেয়ে সন্তান। তাদের কথা ভেবেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন উমাপদ।

তবে দীর্ঘ এসময় পথেঘাটেই ঘুরে বেড়িয়েছেন ভবানী দেবী। ঘুরতে ঘুরতে শেষমেষ তার ঠাঁই হয় বকখালির সমুদ্রসৈকতের কাছে বানেশ্বর নামক স্থানে। সেখানে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে কাজ করতেন ভবানী।

কিছুদিন আগে একজন পর্যটকের মাধ্যমে ভবানী দেবীর নিখোঁজ হওয়ার পুরো খবর জানতে পারে ‘হ্যাম রেডিও’। রেডিওটির সংবাদকর্মী ও সুন্দরবন জেলা পুলিশ ভবানীর পরিচয় বের করেন। তারপর যোগাযোগ করা উমাপদের সঙ্গে।

তবে উমাপদের ঘরে ফেরায় বিপত্তি বাধে বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষের রীতিনীতিতে। প্রতিবেশীরা কোনোভাবেই ভবানীকে স্বামীর ঘরে ফিরতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে বাউরি সম্প্রদায়ের গুরু ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ভবানী দেবীকে উমাপদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন।

রোববার উমাপদ বাউরি ও তাদের প্রতিবেশীরা ভবানী দেবীকে স্বামীর ঘরে ফেরাতে যান সুন্দরবন জেলা পুলিশের এসপির কার্যালয়ে। সেখানে ৩৭ বছর পর মুখোমুখি হন উমাপদ ও ভবানী দম্পতি।

হ্যাম রেডিও’র পশ্চিমবঙ্গ স্টেশনের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রথমে ওই নারীর প্রতিবেশীরা তাকে ফিরিয়ে নিতে চাইছিলেন না। পরে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় তাদেরকে রাজি করানো হয়।’

সুন্দরবন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকেশ সিংহ বলেন, ‘ভবানী দেবীকে স্বামীর ঘরে ফেরাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ কাজে হ্যাম রেডিও এবং প্রশাসন অনেক সহযোগিতা করেছে।’

এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]