শীত পড়তেই পরিযায়ী পাখি দেখতে বিদেশিদের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ সংবাদদাতা

শীত পড়তেই কেউ এসেছেন শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার কেউবা বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। মালদার আদিনা ফরেস্ট এখন পরিযায়ী পাখিদের ভিড়। প্রতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পাখিরা পার্কটিতে আসে। পাঁচ থেকে ছয় মাস থেকে তারা আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়।

বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে এই পার্কে উপচেপড়ে ভিড়। এই পার্কের মূল আকর্ষণটিই হলো পরিযায়ী পাখি। পরিযায়ী পাখিরা আদিনাই এসে বংশবিস্তার করে। গত মাসে আদিনা ফরেস্ট পাখি শুমারি করেছে বন অধিদপ্তর। এবারে ঝাঁকে ঝাঁকে এসেছে পরিযায়ী পাখি। এবারে আদিনাই পাখি শুমারিতে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ২৩ হাজার ১৭৫।

jagonews24ফাইল ছবি

যেভাবে যাবেন আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট পার্কে

টিকিট কাটার পর ফরেস্টে প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পরেই আপনার বাঁ হাতে পড়বে একটি বিশাল পুকুর। পুকুরটির নাম পরানপুকুর। বছরের শেষের দিকে এই পুকুরে বিচরণ করে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি। যার কয়েকটির বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রিন্সিয়া, ওরিয়ল ইত্যাদি।

মূল গন্তব্যস্থলে পৌঁছালে সবার আগে আপনাদের চোখে পড়বে বিশাল একটি পাখির খাঁচা, যেটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জন্য বানানো হয়েছে। যেই খাঁচায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কাকাতুয়া, ককাটেল, চাইনিজ গোল্ডেন ফিজিন্ট ও চাইনিজ সিলভার ফেজেন্ট।

jagonews24ফাইল ছবি

এই পাখির খাঁচা পার করলেই পড়বে বাচ্চাদের খেলার জন্য বানানো পার্কটি। আপনি যদি শিতের সময় এই পার্কে যান তবে এই সময় আদিনা ডিয়ার ফরেস্টের উচুঁ উচুঁ গাছের শাখায় পরিযায়ী পাখি এশিয়ান ওপেনবিল বা শামুখখোল পাখিদের দেখতে পাবেন। যারা নিজ নিজ বাসায় বিচরণ করছে।

এছাড়া আদিনা ডিয়ার পার্কে যাওয়ার সময় তার পাশে অবস্থিত প্রত্নতান্ত্রিক নিদর্শন ‘হামাম খানা’ টি দেখতে ভুলবেন না। এই হামাম খানাটিকে স্থানীয় লোকেরা ‘লুকোচুরি’ ঘর বলে থাকেন। যেটি ঠিক পিকনিক স্পটের ডান দিকেই রয়েছে।

jagonews24ফাইল ছবি

আদিনা ফরেস্ট পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার গাজোল থানার অন্তর্গত, পরিবেশ বান্ধব ও ক্ষুদ্ৰ আকারে চিতল হরিণ সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য একটি পার্ক, যেটি ১৯৮২ সালে তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারে চিড়িয়াখানা অধিদপ্তর এটিকে ছোট চিড়িয়াখানা হিসাবে আখ্যা দিয়েছে।

মালদা থেকে প্রায় ২১ কিমি পূর্বে আর গাজোল থেকে প্রায় ৭ কিমি পশ্চিমে আদিনা স্টপেজ। সেখান থেকে দক্ষিণে প্রায় ১ কিমি দূরে রয়েছে। এই পার্কে যে শুধু হরিণই রয়েছে এমনটি নই, তার পাশাপাশি রয়েছে নিল গাই, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, শিশুদের জন্য খেলার পার্ক, দুটি পুকুর। এছাড়া ১০০ হেক্টর জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে পার্কটি।

এমআরএম/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]