‘যন্ত্রণাহীন’ আত্মহত্যার যন্ত্র অনুমোদন দিলো সুইজারল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে গেছে, যত দ্রুত সম্ভব পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা কম নয়। এদের মধ্যে অনেকে আত্মহত্যার পথ খুঁজে নেন। অনেকে পারেন না। তারপরেও বিশ্বে প্রতিদিন আট লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে স্বেচ্ছায় যন্ত্রণাদায়ক জীবনের সমাপ্তি, অর্থাৎ স্বেচ্ছামৃত্যু অনেক দেশেই বৈধ। সেখানে কেউ চাইলেই নিজেকে মেরে ফেলার অধিকার রাখেন। এমন একটি দেশ হলো সুইজারল্যান্ড। এবার সেই দেশে আইনি স্বীকৃতি পেলো একটি বিশেষ যন্ত্র, ‘সারকো’। এই যন্ত্রের সাহায্যে এক মিনিটেরও কম সময়ে ‘সম্পূর্ণ ব্যথাহীনভাবে’ মৃত্যুবরণ করা যাবে।

এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। সংগঠনটির প্রধান ফিলিপ নিটশে। তিনি ‘ডক্টর ডেথ’ নামেই বেশি পরিচিত। মূলত এই ‘মৃত্যু চিকিৎসকই’ আবিষ্কার করেছেন স্বেচ্ছামৃত্যুর যন্ত্র সারকো।

কফিন আকৃতির যন্ত্রটি বাইরে থেকে তো নিয়ন্ত্রণ করা যাবেই, ভেতরে ঢুকে সেখান থেকেও চালু করা যাবে এটি। এরপর কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারীকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দেবে এই যন্ত্র।

তবে নিজে থেকে যন্ত্রে ঢুকে মারা যাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ যে মানুষটির দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তিনি নিজেকে শেষ করে দিতে চাইছেন, সেই মুহূর্তে তাদের মন, মাথা, শরীর কিছুই ভালোভাবে কাজ করে না। তারা অবসন্ন ও অবচেতন হয়ে পড়েন। তাই ওই সময়ে যন্ত্রটি চালানো তাদের পক্ষে কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য দাবি করেছে, এমন কোনো সমস্যা হবে না। যন্ত্রটি নিজে থেকেও সংকেত গ্রহণ করতে পারবে, কী চাইছেন ব্যবহারকারী। এটি সহজেই পরিবহনযোগ্য।

গত বছর সুইজারল্যান্ডে অন্তত ১৩শ মানুষ আইনি প্রক্রিয়ার সহায়তা নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এবার সেখানে বৈধতা পেলো স্বেচ্ছামৃত্যুর যন্ত্রও। এতে অনেকের ‘সুবিধা’ হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে এই যন্ত্রের সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক। এটি সংকটে পড়া লোকদের আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করছেন অনেকে। যন্ত্রটি যেভাবে কাজ করে, তা নারকীয় গ্যাসচেম্বারের থেকে আলাদা কিছু নয় বলেই মত তাদের।

সূত্র: দ্য ওয়াল, হিন্দুস্তান টাইমস

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]