অন্যের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দিনে আয় ১৮ হাজার টাকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২
প্রতীকী ছবি

লাইনে দাঁড়ানোর কথা শুনলে আমাদের বেশিরভাগই হয়তো বিরক্ত হবেন, এমনকি তা যদি কয়েক মিনিটের জন্যেও হয়! কিন্তু শুধু ওই লাইনে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই এক লোক দিনে ১৮ হাজার টাকার বেশি আয় করছেন। ভাবছেন, কীভাবে? ঘটনাটি ইংল্যান্ডের প্রাণকেন্দ্র লন্ডনের। সেখানে এক ব্যক্তি ‘টাকা আছে, সময় নেই’ এমন লোকদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাপ্রতি ২০ পাউন্ড (২৩শ’ টাকা প্রায়) দাবি করছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সানের খবর অনুসারে, ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম ফ্রেডি বেকিট। থাকেন পশ্চিম লন্ডনের ফুলহ্যামে। অন্যের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অর্থ আয় করার কৌশল ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন তিনি।

ফ্রেডি জানিয়েছেন, তার সবচেয়ে ভালো দিন যায় যেদিন অ্যাপোলো থিয়েটারের মতো জায়গাগুলোতে জনপ্রিয় কোনো অনুষ্ঠান থাকে। এসব অনুষ্ঠানের টিকিট সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত ধনী লোকদের জন্য লাইনে দাঁড়ান তিনি। আর এই কাজ থেকে ভালোই আয় হয় তার। দৈনিক আট ঘণ্টা দাঁড়ালে ১৬০ পাউন্ড, অর্থাৎ ১৮ হাজার ৭০০ টাকার বেশি পান এ যুবক।

তবে ‘দাঁড়িয়ে থেকে আয়’ শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, আদতে অতটাও সহজ নয়। এর জন্য কঠোর ধৈর্য ও নিষ্ঠার দরকার হয়। শীতকালে বরফপড়া ঠাণ্ডার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে ফ্রেডিকে। সেসময় কাজও খুব একটা মেলে না।

তবে গরমকালে সেই ‘ক্ষতি’ অনেকটাই পুষিয়ে যায়। এসময় লন্ডনে বড় বড় সব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তাতে লোকসমাগমও হয় প্রচুর।

Freddie-1

ফ্রেডি জানিয়েছেন, ধনী তরুণ থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ সবধরনের গ্রাহক রয়েছে তার।

তিনি পোষা প্রাণীর দেখভাল, প্যাকিং, খবর বা জিনিসপত্র আনা-নেওয়া ও বাগানের কাজে সহায়তার মতো সেবাও দেন। টাস্কর্যাবিট নামে স্থানীয় একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিজের সেবাগুলোর জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি।

তবে এসব কাজ স্বেচ্ছায় করা গেলেও ফুলটাইম চাকরি হিসেবে নিতে পারছেন না ফ্রেডি বা লাইনে দাঁড়ানোর জন্য ঘণ্টাপ্রতি ২০ পাউন্ডের বেশিও দাবি করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, মনে হয় না যে আমি প্রতি ঘণ্টায় ২০ পাউন্ডের বেশি দাবি করতে পারি। কারণ, এর জন্য বিশেষ কোনো দক্ষতা বা কঠোর পরিশ্রমের দরকার হয় না। তবে এটি আমাকে অর্থ আয় করতে ও আমার লেখালেখির সময় ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আমার পরিবার ও বন্ধুরা এ কাজে মজা পেলেও আমি নিশ্চিত, তারা অবাক হয়নি।

কেএএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]