মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সোচ্চার পীযূষ

ত্রিপুরা প্রতিনিধি
রাত পোহালেই কেউ ছোটে ইটভাটায়, কেউবা ছোটে রাস্তার ধারে কুড়ানো ফসল বিক্রি করতে। তাদের সবারই বয়স ১৩ কিংবা ১৪ বছর হবে। পীযূষ কান্তি রায় নামে একজনের উদ্যোগে বদলে গেছে তাদের জীবন। তারা সবাই স্কুলের গণ্ডিতে পা রেখেছেন।
ত্রিপুরা রাজ্যের ধলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করার সময় থেকেই পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে বিনামূল্যে কোচিংয়ের মাধ্যমে বাচ্চাদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন পীযূষ কান্তি রায়।
পীযূষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে স্থানান্তরিত হয় চলে যান খোয়াই মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে। চাকরিসূত্রে স্থানান্তরিত হয়েছেন ঠিকই কিন্তু বাদ দেননি সমাজসেবার কাজ। এরই মধ্যে তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৩টি শিক্ষাকেন্দ্র খুলেছেন। যেখানে বিনামূল্যে পড়ানো হচ্ছে দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের।
স্ব-উদ্যোগেই মাতৃছায়া শিক্ষাকেন্দ্র নামে এই কোচিং সেন্টারগুলো খোলেন তিনি। এই সেন্টারগুলো খোলার পর সেগুলো চালাতে গিয়ে সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থও আদায় করছেন। এই অর্থ সহায়তায় তিনি চালিয়ে যান কোচিং সেন্টারগুলোর খরচ। ২০০৯ সালে চালু হলেও এখন সরকারি নিবন্ধনও রয়েছে তার।
৩৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি এতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। সমাজের বিভিন্ন অংশের পরিপন্থি বিষয়গুলো নিয়ে তিনি সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ান রাজ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে তিনি এখন সময় সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়ান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তার সঙ্গে অবশ্যই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের সেই ব্যানার কিংবা সাইনবোর্ড।
অনেকে তাকে দেখে নানা টিপ্পনী কাটলেও তাতে কিছুই আসে যায় না তার। লক্ষ্য একটাই, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য যে করেই হোক সফল করে তুলতে হবে। ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার চেবরি এলাকায় বাড়ি তার। যুধিষ্ঠির রায় এবং ছায়ারানী রায়ের সন্তান হিসেবে তিনি এমন সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়েই নিজেকে উৎসর্গ করতে চান।
২০০৫ সালে তিনি খোয়াই-এর দশরথ দেব মেমোরিয়াল কলেজ থেকে বিএ পাস করেন পীযূষ। এরপর ২০০৯ সালেই সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন ধলাই জেলার জেলা প্রশাসকের অফিসে কর্মরত থাকলেও সম্প্রতি তাকে বদলি করা হয় খোয়াই মহকুমা শাসকের অফিসে।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা থেকে গোমতী জেলা, কখনো আবার গোমতী জেলা থেকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা। সুযোগ পেলে এই পদযাত্রাকেই তিনি এখন তার মূল লক্ষ্য বলে ধরে নিয়েছেন।
এসএনআর/এএসএম