৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে চাঙা হচ্ছে হংকংয়ের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

এশিয়ার বাণিজ্যিক হাব বা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং। ২০২১ সালে হংকংয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। বিগত দুই বছরের মন্দা কাটিয়ে এই শহরের অর্থনীতি চাঙা হতে শুরু করেছে। আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ২০২২ সালে ফুলেফেঁপে উঠবে হংকংয়ের ব্যবসা-বাণিজ্য।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মহামারির কারণে দৈনন্দিন ধাক্কা সামলে এখন দ্রুত বর্ধনশীল হচ্ছে হংকংয়ের অর্থনীতি।

এক বছর আগের তুলনায় শেষ প্রান্তিকে শহরটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত মহামারি চলাকালে সংক্রমণ কম এবং সরকারের তিনশ ৮৩ কোটি মার্কিন ডলার ভর্তুকির কারণে এমনটি হয়েছে।

২০২০ সালে হংকংয়ের জিডিপির আকার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৬২ সালের পর প্রথম বার্ষিক এই জিডিপি অর্জিত হয় অঞ্চলটিতে। ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে হংকংয়ের অর্থনীতি আরও পুনরুদ্ধার হয়েছে। সেকারণে হংকং সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদও জানিয়েছে।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে শহরটি এর জিরো কোভিড নীতি বজায় রাখতে সংগ্রাম করছে। চীনের অর্থনীতিবিদ শিয়ানা ইউ বলেছেন, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ব্যবসার উপর নতুন করে বিধিনিষেধ অর্থনীতির স্বল্প-মেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিকে ম্লান করেছে। জানুয়ারি-মার্চ অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে আবারও এর অর্থনীতি সংকুচিত হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ শিয়ানা ইউ বলেন, তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল তা ৪ থেকে ৩ শতাংশ কমেছে। করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে ওমিক্রন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার ওপরও জোর দেন ইউ।

শীর্ষ অর্থনীতিবিদ লয়েড চ্যান বলেছেন, আমরা আশা করি সরকারের শূন্য-কোভিড সহনশীলতা নীতি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে টেনে তুলবে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবেশও এই বাণিজ্যিক হাবের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ২০২২ সালের শুরুতে ধীরগতিতে চলা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হংকংয়ের অর্থনীতিকেও সম্পৃক্ত করবে। সরকার বলছে, মহামারির মধ্যে সরবরাহে বাধার ফলে অর্থনীতির কিছু প্রধান খাতে ক্রমবর্ধমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সরকারি তথ্য বলছে,বাণিজ্যনির্ভর শহরটির গত বছর রপ্তানি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমদানি ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল ভূখণ্ড চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হংকংয়ের অর্থনীতিবিষয়ক সেক্রেটারি পল চ্যান ধারণা করছেন যে, এ বছর অর্থনীতির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। যদিও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এখনো নানাবিধ অনিশ্চয়তা রয়েছে। চ্যান চলতি মাসের শুরুতে তার অফিসিয়াল ব্লগে এক পোস্টে লিখেছেন, যদি বাহ্যিক পরিবেশের কোনো দৃশ্যমান অবনতি না হয় এবং স্থানীয় মহামারি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে তবে হংকংয়ের অর্থনীতি ২০২২ সালেও প্রবৃদ্ধির পথেই হাঁটবে।

করোনার নতুন ধরন সংক্রমণের সময় নতুন করে কৌশল অবলম্বন করতে বিনিয়োগকারী ও আইনপ্রণেতারাও সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা এখন অব্দি কর্মকর্তারা শুধু কিছু ব্যবসায়িক খাতে নতুন সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিদেশি ব্যবসায়িক চেম্বারগুলো শহরের কঠোর কোয়ারেন্টাইন নিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সতর্ক করেছে যে, এসব নিয়ম কানুন বাণিজ্যিক এই প্রাণ কেন্দ্রের সুনাম নষ্ট করছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বেশিরভাগ বিদেশি ভ্রমণকারীদের হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্ত শিথিল করেছেন। তিন থেকে দুই সপ্তাহ কমানো হয়েছে নির্ধারিত সময়। তবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং অন্য পাঁচটি দেশের ফ্লাইটের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত সপ্তাহে জানিয়েছে, শহরটির অর্থনীতি স্থিতিস্থাপক ছিল। দ্রুত এবং সাহসী নীতির কারণে এর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

আইএমএফ আরও জানায়, ব্যক্তিগত খরচ কম, আংশিকভাবে শূন্য-কোভিড সহনশীলতার নীতির কারণে পুনরুদ্ধার অসম রয়ে গেছে। একটি সুষম অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে হংকংয়ের প্রতিযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার জন্য একটি কৌশল প্রয়োজন। যার লক্ষ্য হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত ঝুঁকি বিবেচনা করা।

সূত্র: নিক্কেই এশিয়া

এসএনআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]