অভাবের তাড়নায় সন্তান, শরীরের অঙ্গ বিক্রি করছেন আফগানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

অডিও শুনুন

আফগানিস্তানে মানবিক সংকটের বিষয়ে আবারও সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান। সংস্থাটির প্রধান ডেভিড বেসলি জানিয়েছেন, অভাবের তাড়নায় শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং সন্তানদের বেচে দিতে বাধ্য হচ্ছেন আফগানরা।

আফগানিস্তানের বিষয়ে সবাইকে আরও একবার সতর্ক করে ডেভিড বেসলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। তিনি অবিলম্বে দেশটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই খরা, মহামারি এবং অর্থনীতি ধসের কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে সময় পার করছেন আফগানরা। দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। এই শীতে অর্ধেকের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষে পতিত হবেন এবং চলতি বছর দেশটির ৯৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে দিন কাটাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বেসলি বলেন, গত ২০ বছরের সংঘাতে আফগানিস্তান ইতোমধ্যেই দরিদ্র দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দেশটির ৪ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষই এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

ওই সাক্ষাতকারে তিনি জানান, আফগানিস্তানে এক নারীর সঙ্গে তার দেখা হয়েছে যিনি খাবারের অভাবে নিজের সন্তানকে অন্য একটি পরিবারে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তার আশা তার সন্তানকে নতুন পরিবারে খাবারের কষ্ট করতে হবে না।

বর্তমান খাদ্য সংকটের এই পরিস্থিতি সমাধানে বিশ্বের ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বেসলি। তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে ধনকুবেরদের সম্পদ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তারা এই সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারেন।

ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি এবং বিশেষ দূতরা গত ২৪ জানুয়ারি অসলোতে সাক্ষাত করেন। তারা আফগানিস্তানের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।

টিটিএন/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]