অগ্নিমূল্যের বাজারে কলকাতায় স্বস্তি সবজিতে

জ্যোতির্ময় দত্ত জ্যোতির্ময় দত্ত , পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ১৯ মে ২০২২

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে প্রায় তিন মাস হতে চললো। এর দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। পেট্রল-ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বেড়েছে গ্যাসের দামও। চাল, ডাল, রান্নার তেলসহ প্রায় প্রতিটি জিনিসের দামই হু হু করে বাড়ছে। তবে অগ্নিমূল্যের এই বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে সবজি। কলকাতায় প্রায় সব ধরনের সবজি মিলছে ৪০ রুপির মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে যে চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫০ রুপি, তা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ রুপি হয়েছে। ডালের দাম ১৩০ রুপি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০। সরিষার তেল ১৫০ থেকে একলাফে বেড়ে হয়েছে ১৭০ রুপি। সাদা তেলের দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ রুপি।

মাছ বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছে ৫০ রুপির মতো। খাসির মাংস এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৭০০ রুপিতে, এখন তার দাম দাঁড়িয়েছে কেজিতে ৭৬০ রুপি। মুরগির মাংসের দাম ২০০ রুপি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭০ রুপিতে।

গত মার্চ-এপ্রিল মাসে সবজি বাজার আকাশছোঁয়া থাকলেও এই মুহূর্তে দাম অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। যদিও বেড়েছে আলুর দাম। বাজারে এখন প্রতি কেজি জ্যোতি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ রুপিতে এবং চন্দ্রমুখী আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ রুপিতে। পটল প্রতি কেজি ৪০ রুপি, ঢেঁড়শ ৩৫ রুপি, উচ্ছে ৬০ রুপি, লাউ-পেঁপে ৪০ রুপি, মিষ্টি কুমড়ার দাম প্রতি কেজি ৩০ রুপি। এছাড়া পটল ৪৫, ঝিঙে ৩৫, টমেটো ৪৫, মরিচ ১০০, শসা ৩০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

শুধু কলকাতায় নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গেই এসব পণ্যের একই ধরনের দাম বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন বাজার সমিতির সদস্যরা। এদিন সন্ধ্যায় কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এমন অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি। আবার কেউ বলেছেন, অন্যান্য সবকিছুর দাম বাড়লেও সবজির দাম কম হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে।

বাজার সমিতির এক সদস্য বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম না কমা পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য কোনোভাবেই কমানো সম্ভব হবে না। বিক্রেতাদের বক্তব্য, পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

এক ক্রেতা কিছুটা ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, বাজারে যখন যে দাম বলা হয়, আমাদের সেই দামেই কিনতে হয়। যেন কারও কিছু করার নেই।

এক সবজি চাষি বলেন, এখন পর্যন্ত সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। ফলনও কম। তাই আলু, ফলমূল এসবের দাম বেড়েছে।

কেএএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]