ক্ষমতালোভীদের দশা এমনই হয়, বললেন মাহিন্দার আপন বড় ভাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ২০ মে ২০২২
চামাল রাজাপাকসে ও মাহিন্দা রাজাপাকসে। ছবি সংগৃহীত

২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। ২০০৪ থেকে ২০০৫, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং সবশেষ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে। এছাড়া ২০০২ থেকে ২০০৪ ও ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলীয় নেতা এবং ২০০৫ থেকে ২০১৫ ও ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মাহিন্দা।

তবে শেষটা মোটেও সুখকর হয়নি অভিজ্ঞ এ রাজনীতিকের। শ্রীলঙ্কার জনগণের কাছে গৃহযুদ্ধ জয়ের নায়ক থেকে হঠাৎই ভিলেন বনে গেছেন তিনি। দক্ষিণ এশীয় দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ইতিহাসের ভয়াবহতম অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় মদত দেওয়ার অভিযোগের মুখে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। তারা দেশত্যাগে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। মাহিন্দাকে গ্রেফতারের দাবিতে এখনো অনড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা।

কিন্তু ক্ষমতা কখন ছাড়তে হয় তা যদি আগে জানতেন, তাহলে হয়তো শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এমন অবস্থায় পড়তে হতো না। এই মন্তব্য মাহিন্দারই আপন বড় ভাই চামাল রাজাপাকসের।

শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন দল এসএলপিপির এমপি এবং সাবেক স্পিকার চামাল বৃহস্পতিবার (১৯ মে) লঙ্কান পার্লামেন্টে বলেছেন, মাহিন্দা রাজাপাকসের উচিত ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করার পরপরই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া।

ছোট ভাই প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, রাজনীতিতে ৫০ বছরের যাত্রা ও অসামান্য সব অর্জন এক নিমিষেই হারিয়ে গেলো। ক্ষমতা ও পদের জন্য লোভী হয়ে গেলে আজ যেমনটা দেখছি, আমাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে, গত ১২ মে মাহিন্দা রাজাপাকসে, তার রাজনীতিবিদ পুত্র নামাল ও আরও ১৫ মিত্রের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন শ্রীলঙ্কার একটি আদালত। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার অভিযোগে তাদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়া গত ৯ মে শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল গলে ফেস গ্রিন ও টেম্পল ট্রিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার তদন্ত করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন কলম্বোর ম্যাজিস্ট্রেট। সেদিনের ওই ঘটনার জেরে দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে প্রাণ হারান অন্তত নয়জন, ক্ষয়ক্ষতিও হয় প্রচুর।

৯ মে’র সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজাপাকসে ও তার সহযোগীরা প্রায় তিন হাজার সমর্থককে বাসে করে কলম্বোয় নিয়ে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করতে প্ররোচিত করেছিলেন। তাদের দাবি, সরকার সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়।

এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২৫ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং ক্যাথলিক পুরোহিতও ছিলেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। একরাতের মধ্যেই অগ্নিসংযোগ করা হয় শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী-এমপিসহ প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক নেতার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। সহিংসতায় প্রাণ হারান এক এমপি, আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় আরও একজনকে। হামলার শিকার হন সরকারি কর্মকর্তারাও।

পরে তোপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ তখনো যায়নি। তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেন। শেষপর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে সরকারি বাসভবন ছাড়েন তিনি।

সবশেষ খবর অনুসারে, ৭৬ বছর বয়সী এ নেতা বর্তমানে শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় একটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছেন। তার ছেলে নামাল জানিয়েছিলেন, মাহিন্দা রাজাপাকসের দেশত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

সূত্র: আইল্যান্ড, ডেইলি মিরর

কেএএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]