২০২১ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বেড়েছে ২০ শতাংশ: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ২৪ মে ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে ২০২১ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে, একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ। মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে এসব তথ্য।

সংস্থাটির বার্ষিক রিপোর্ট বলছে, ২০২১ সালে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অন্তত ২ হাজার ৫২ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বেড়ে যাওয়ার শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। সেখানে ২০২১ সালে ৩১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, এর আগে ২০২০ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২৪৬ জনের, অর্থাৎ ২৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে মাদক সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১৩২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় যা মোট মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ৪২ শতাংশ এবং ২০২০ সাল থেকে পাঁচগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংস্থাটির এই পরিসংখ্যানে চীন অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সেখানে গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে একটি ব্যবস্থায় প্রতি বছর হাজার হাজার লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হয়।

অ্যামনেস্টি বলছে যে, উত্তর কোরিয়া ও ভিয়েতনামেও গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। ফলে এসব দেশে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়া যায় না। একারণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দেশগুলোর প্রবণতার সম্পূর্ণ মূল্যায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সংস্থার রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে ২০২০ সালে যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ২০২১ সালে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সংস্থাটি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানেও মৃত্যুদণ্ডের রায় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি আরও উল্লেখ করেছে যে রক্ষণবাদী রাষ্ট্রগুলো ‘বিক্ষোভকারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অস্ত্রাগার হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় নিয়েছে’।

মিয়ানমার, যেখানে দেশটির সেনাবাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে নেয়। সেখানে সামরিক আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ড উদ্বেজনক হারে বেড়েছে। বিদ্যমান সামরিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা এবং আপিল করার অধিকার ছাড়াই দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। দেশটিতে ৯০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং আসামিদের হাজিরও করা হয়নি মামলার রায়ের সময়।

ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সত্ত্বেও, অ্যামনেস্টি বলছে যে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা রহিত করার পক্ষেই রয়েছে। গত বছর মাত্র ১৮টি দেশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানা গেছে। যা রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে এটি সর্বনিম্ন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৮ সালের পর থেকে মৃত্যুদণ্ড সর্বনিম্নে নেমে আসে। দেশটির ফেডারেল প্রশাসন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর একটি অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করে সে সময়। ভার্জিনিয়া দেশটির ২৩তম রাজ্যে যেখানে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।

বেশ কয়েকটি দেশ মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার রহিত করতে বা এর ব্যবহার সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত জুলাই মাসে, সিয়েরা লিওনের পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিল পাসের জন্য ভোট দেয় মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার জন্য। একই ধরনের আইন কাজাখস্তানে গত ডিসেম্বরে পাস হয়।

মালয়েশিয়াও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপরে স্থগিতাদেশ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশটির সরকার বলছে যে তারা এ বছরের শেষ দিকে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের বিষয়ে আইনী পরিবর্তন প্রস্তুত করবে। দেশটিতে বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় মাদক সংক্রান্ত মামলায়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএনআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]