পি কে হালদারকে তোলা হচ্ছে আদালতে, ফের রিমান্ড চাইতে পারে ইডি

জ্যোতির্ময় দত্ত জ্যোতির্ময় দত্ত , পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ২৭ মে ২০২২

বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতে গ্রেফতার প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারসহ পাঁচজনের ফের রিমান্ড চেয়ে আজ আদালতে তুলবে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

শুক্রবার (২৭ মে) দুপুর ২টার পর কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে স্পেশাল সিবিআই ১ নম্বর কোর্টে বিচারক মাসুক হোসেইন খানের আদালতে তোলা হবে।

অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে পি কে হালদারসহ গ্রেফতার ইমাম হোসেন ওরফে ইমন হালদার, স্বপন মৈত্র ওরফে স্বপন মিস্ত্রি, উত্তম মৈত্র ওরফে উত্তম মিস্ত্রি, প্রাণেশ হালদার, আমানা সুলতানা ওরফে শর্মী হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। এছাড়াও আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আবেদন করা হবে।

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর গত ১৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়ে পি কে হালদারসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

২০২০ সালের শুরুর দিকে খবর আসে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার নামে-বেনামে পিপলস লিজিংসহ নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ওই বছরের ৮ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দায়ের করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে ভারতে গা ঢাকা দিয়ে ব্যবসা পেতে বসেন পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইডি গত ১৪ মে গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর পি কে হালদার ও তার ৫ সহযোগীকে আদালতে তোলা হলে প্রথমে তিনদিন ও দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ইডি সূত্র বলছে, গ্রেফতার ছয়জনের কাছ থেকে নগদ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা, বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। রিমান্ড চলাকালে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি।

সংস্থাটির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে লোপাট করে আনা অর্থ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পি কে হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় নামিদামি অনেক ব্যক্তির নাম ওঠে এসেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেও তদন্তের স্বার্থে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের আবারও রিমান্ড আবেদন করতে পারে ইডি।

এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]