চিনি নিয়ে চিন্তা নেই সিঙ্গাপুরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ২৮ মে ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

ভারত চিনি রপ্তানি সীমিত করলেও তা নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই সিঙ্গাপুরের। কারণ ভারত চিনি উৎপাদনে বিশ্বে এক নম্বর ও রপ্তানিতে দ্বিতীয় হলেও তাদের কাছ থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটি খুব সামান্যই আমদানি করে। ফলে সিঙ্গাপুরের বাজারে ভারত সরকার চিনি রপ্তানিতে সীমা বেঁধে দেওয়ার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

সিঙ্গাপুরে চেং ইয়ু হেং নামে একটি চিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জন চেং দ্য স্ট্রেইট টাইমসকে বলেছেন, তারা প্রধানত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো থেকে চিনি আমদানি করেন। ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ পাঁচ শতাংশেরও কম।

চেং ইয়ু হেং সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রধান চিনি আমদানিকারক এবং দেশটির প্রাচীনতম চিনি প্রস্তুতকারক।

একইভাবে চিনি আমদানিকারক হিয়াং লি ট্রেডার্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, সিঙ্গাপুর মূলত থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে বেশি চিনি কেনে। স্থানীয় চিনির বাজারের ভারতের অংশ খুবই নগণ্য। তাই ভারত চিনি রপ্তানি সীমিত করার প্রভাব সিঙ্গাপুরে পড়ার কথা নয়।

তার ভাষ্যমতে, ভারত প্রায়ই বছরের শেষভাগে চিনি রপ্তানি সীমিত করে থাকে। (যদিও ছয় বছরের মধ্যে ভারত প্রথমবার গত ২৪ মে চিনি রপ্তানি সীমিত করার কথা জানিয়েছে।)

হিয়াং লি ট্রেডার্সের এক মুখপাত্র বলেন, ভারতে বছরে একবার চিনি উৎপাদন হয়। সাধারণত সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি তারা চিনি রপ্তানিতে কোটা আরোপ করে, কারণ দেশটিকে পরবর্তী ফসল আসার জন্য আবার অপেক্ষা করতে হবে। তাই ভারতে রপ্তানি সীমা আরোপ করা অনেকটাই স্বাভাবিক, শুধু এবারেরটি বছরের শুরুর দিকে ঘটছে। তবে সব মিলিয়ে ভারতে এখনো চিনির উদ্বৃত্ত রয়েছে। তাই এটি আমাদের ভাবাচ্ছে না। সেখানে স্থানীয় বাজারে দাম কমে আসা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এরপর দেশটি আবারও স্বাভাবিকভাবে রপ্তানি করবে।

সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সির (এসএফএ) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ ৪০টির বেশি দেশ থেকে চিনি আমদানি করে সিঙ্গাপুর। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যকরণ আমাদের মূল কৌশলগুলোর একটি, বিশেষ করে বর্তমান অস্থির বৈশ্বিক খাদ্য পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। কোনো একটি উৎসে ব্যাঘাত ঘটলেই আমরা বিকল্প উৎসগুলোতে যোগাযোগের জন্য আমদানিকারকদের সঙ্গে কাজ করবো।

স্থানীয় সুপারমার্কেগুলোর তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস সিঙ্গাপুরে চিনি সরবরাহের পাশাপাশি দামও স্থিতিশীল রয়েছে। সুপারশপ চেইন ফেয়ারপ্রাইসের মুখপাত্রের কথায়, সবার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী রাখতে আমরা থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মালয়েশিয়া থেকে চিনি আমদানি করি। এছাড়া দৈনিক সরবরাহ ও দাম ঠিক রাখতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হয়।

তবে সিঙ্গাপুরের চিনি আমদানিতে ভারতের অনেক বিকল্প থাকলেও এর মূল্যবৃদ্ধি অনেকটা অবধারিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। জন চেংয়ের ভাষ্যমতে, অন্য দেশগুলো ভারত থেকে চিনি কিনতে না পারলে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার মতো বিকল্প উৎসের দিকে তাকাতে পারে... এতে সামগ্রিকভাবে হয়তো দাম বাড়বে। তবে তা খুব শিগগির ঘটার সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, চিনি পাওয়া যাবে না ভেবে কারও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এখানকার আমদানিকারকরাও নিশ্চিত করছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে। (ভারত বাদে) চিনির আরও অনেক উৎস রয়েছে।

কেএএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]