ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাড়তে পারে মাদক কারবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ২৭ জুন ২০২২

ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে অবৈধভাবে মাদক উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সোমবার (২৭ জুন) এ সতর্ক বার্তা দেয় সংস্থাটি।

জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিস (ইউএনওডিসি) তার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলো সিন্থেটিক মাদক তৈরির জন্য ‘চুম্বক’ হিসাবে কাজ করেছে। এটি যে কোনো জায়গায় বসে তৈরি করা যেতে পারে। যখন সংঘাতপূর্ণ এলাকা বড় ভোক্তা বাজারের কাছাকাছি থাকে তখন এই প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।

সংস্থাটির বার্ষিক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগেই ইউক্রেনের মাদকের উৎপাদন চোখে পড়ার মতো ছিল। ২০১৯ সালে বেআইনি সিন্থেটিক মাদক তৈরির কারখানা যেখানে ছিল ১৭ সেখানে ২০২০ সালে তা ৭৯-তে গিয়ে পৌঁছায়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা আরো বাড়ার শঙ্কা আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় এ ধরনের কারখানা বাড়ে কারণ, ওই সময় পুলিশ কারখানায় তল্লাশি চালায় না। দুষ্কৃতীরা সেই সুযোগটিকে কাজে লাগায়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংঘাত মাদক পাচারের রুটগুলোকেও পরিবর্তন করতে পারে। ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে মাদক পাচার কমেছে।

আফগানিস্তানের পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ২০২১ সালে বিশ্বের আফিমের ৮৬ শতাংশ উৎপাদন হয় সেখানে। গত এপ্রিল মাসে তালেবান সরকার আফিম চাষ নিষিদ্ধ করার পরও দেশটির মানবিক সংকট অবৈধভাবে মাদক চাষকে উৎসাহিত করতে পারে।

রিপোর্টের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে আনুমানিক ২৮৪ মিলিয়ন অর্থাৎ ২৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করেছে। তারা বিশ্বব্যাপী প্রতি ১৮ জনের একজন এবং যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। ২০১০ সালের পর ২৬ শতাংশ বেড়েছে মাদকের ব্যবহার। শুধু তাই নয় ২০২০ সালে কোকেন উৎপাদন হয় এক হাজার ৯শ ৮২ টন।

ইউএনওডিসি রিপোর্টটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত তথ্য, নিজস্ব সূত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সোর্সের উপাদান বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস, ডয়েচে ভেলে

এসএনআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]