স্নেক আইল্যান্ডে ফসফরাস বোমা ফেলেছে রাশিয়া: ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২

স্নেক আইল্যান্ডে রাশিয়া ফসফরাস বোমা ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের মালিকানাধীন ওই দ্বীপ এলাকা থেকে রুশ সেনাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার একদিন পরেই এমন অভিযোগ সামনে এলো। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয় সময় শুক্রবার এক টেলিগ্রাম পোস্টে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ভ্যালেরি জালুঝনি বলেন, রুশ নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া অঞ্চল থেকে দুটি এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান উড়ে এসে ফসফরাস বোমা ফেলেছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম দিকে তারা স্নেক আইল্যান্ড নামে যে ক্ষুদ্র দ্বীপটি দখল করে নিয়েছিল তা থেকে রুশ সৈন্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দ্বীপটির ওপর ইউক্রেনের তীব্র আক্রমণের পর রাশিয়া এ কথা জানায়। সে সময় মস্কো জানায়, স্নেক আইল্যান্ড থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি একটি ‘শুভেচ্ছাসূচক পদক্ষেপ’ এবং এর মাধ্যমে তারা দেখাতে চাইছে যে ইউক্রেন থেকে কৃষিপণ্য পরিবহনের পথে রাশিয়া কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না।

কিন্তু ইউক্রেন সরকার বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান দিয়ে আক্রমণ চালানো হলে রুশ সৈন্যরা তড়িঘড়ি করে দুটি স্পিডবোটে চেপে দ্বীপটি ছেড়ে চলে যায়।

রাশিয়ার এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন ইউক্রেন দ্বীপটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান দিয়ে প্রচণ্ড আক্রমণ চালাচ্ছিল। বুধবারের উপগ্রহ চিত্রে দ্বীপটি থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের একেবারে শুরুর দিকে রাশিয়া এ দ্বীপটি দখল করেছিল। তখন থেকেই এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণের জন্য দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলছিল।

দ্বীপটির ওপর ইউক্রেন নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকলেও এক পর্যায়ে রাশিয়া এ দ্বীপটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংহত করেছিল। তারা সেখানে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল, যা ইউক্রেনের বাহিনী ও যুদ্ধবিমানের জন্য সার্বক্ষণিক হুমকি হয়ে উঠেছিল। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীও যুদ্ধবিমান, কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালাচ্ছিল। ফলে রাশিয়ার জন্য দ্বীপটির ওপর দখল রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল বলে বিশ্লেষকরা জানান।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড স্নেক আইল্যান্ড ছেড়ে রুশ সৈন্যদের চলে যাবার কথা ঘোষণা করে। স্নেক আইল্যান্ড পুনর্দখল ইউক্রেনের জন্য একটি বড় বিজয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

টিটিএন/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]