গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিশ্চুপ কেন হামাস?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সবশেষ হামলা মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়, বরং তা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ঘটনা। গত ৫ আগস্ট ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) এক কমান্ডারসহ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র টিম মারা যায়। ইসরায়েলের দাবি, গাজা সীমান্তের কাছে বসবাসরত ইসরায়েলিদের ওপর আসন্ন হামলা ঠেকাতে পূর্বসতর্কতাস্বরূপ এই কাজ করেছে তারা।

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহও ছিল অনুমানযোগ্য। ইসরায়েলি শহরগুলোকে লক্ষ্য করে রকেট ও মর্টারশেল ছুড়ে প্রতিশোধ নেয় পিআইজে। তবে সেগুলোর প্রায় সবকটিই ফাঁকা জায়গায় গিয়ে পড়ে অথবা ইসরায়েলি আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর ইসরায়েল আবারও বিমান হামলা চালিয়ে পিআইজের আরেক কমান্ডারকে হত্যা করে।

তিন দিনের এই লড়াইয়ে ৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ইসরায়েল জোর দিয়ে বলেছে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করেছিল এবং নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে বেশিরভাগই পিআইজের ত্রুটিপূর্ণ রকেটের শিকার।

Gaza-2৬ আগস্টও গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ছবি সংগৃহীত

২০২১ সালের মে মাসে যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুতর লড়াই। ১১ দিনের ওই যুদ্ধে অন্তত ২৭০ জন নিহত হন, যাদের প্রায় সবাই ফিলিস্তিনি নাগরিক। তবে এবারের হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা ছিল অনেকটাই সীমিত। গত রোববার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় মিশরের মধ্যস্থতায় দুইপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

এখানে উল্লেখযোগ্য, ১৫ বছর ধরে গাজা নিয়ন্ত্রণ করলেও এবারের লড়াই থেকে বিরত ছিল বৃহত্তর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। এর আংশিক কারণ, গোষ্ঠীটি তার তুলনামূলক ছোট প্রতিদ্বন্দ্বীকে ইসরায়েলের হাতে নিষ্পেষিত হতে দেখে খুশি অথবা গত বছর সহিংসতার পর থেকে গাজার অর্থনীতিতে সামান্য উন্নতিকে তারা ঝুঁকিতে ফেলতে নারাজ।

ওই সময় থেকে ইসরায়েলি সরকার অঘোষিতভাবে ‘সংঘাত হ্রাস’ নামে একটি নীতি মেনে চলছে। এই নীতি শতাব্দী প্রাচীন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে নিষেধ করলেও স্থিতিশীলতার জন্য আর্থিক উন্নতির চেষ্টা করছে। এর প্রভাবে ফিলিস্তিনিদের অতিপ্রয়োজনীয় নগদ অর্থের জন্য গাজায় দৈনিক ১৪ হাজার ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। ইসরায়েল কিছু অবকাঠামো নির্মাণেরও অনুমতি দিয়েছে এবং ২০০৭ সালে হামাস ক্ষমতালাভের পর থেকে সীমান্ত বন্ধ করার বিষয়টি ধীরে ধীরে শিথিল করেছে।

Gaza-2৫ আগস্ট ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে শতাধিক রকেট ছোড়ে পিআইজে। ছবি সংগৃহীত

ইসরায়েলের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ করেই হামাসের কাছে হারানোর মতো অনেক কিছু রয়েছে। তাদের ওপর এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মাত্রা বজায় রাখার দায়িত্ব পড়েছে। তাই ইসরায়েলকে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠার আগপর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য সাইডলাইনে থাকতে পারে হামাস।

ইসরায়েলের দখলদারি প্রতিহত করার জন্য ১৯৮০র দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হামাস ও পিআইজে। ১৯৯৩ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ইসরায়েলের সঙ্গে তথাকথিত অসলো অ্যাকর্ডে সম্মত হলে পশ্চিম তীর ও গাজার কিছু অংশে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়। তবে এতে যোগ দিতে অস্বীকার করে হামাস-পিআইজে উভয়ই। পরিবর্তে ইসরায়েলকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে অটল থাকে তারা।

পিআইজে’কে প্রচুর অর্থসহযোগিতা দিয়ে থাকে ইরান। গোষ্ঠীটি এখনো ছোটখাটো সহিংসতায় জড়িত থাকলেও হামাস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিশর, সৌদিসহ অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধবিরতিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

এ অবস্থায় ইসরায়েলের কোনো হামলায় গাজার খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি না হলে এবং তা যদি পিআইজে’কে দুর্বল করে দেয়, তবে সেটি হয়তো হামাসের পক্ষেই কাজ করবে।

(দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে, অনুবাদ করেছেন খান আরাফাত আলী)

কেএএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।