ইউক্রেনে গণভোট: ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন রুশ সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
সংগৃহীত

রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও মস্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে এই কথিত ভোটের আয়োজন। শুক্রবার শুরু হওয়া এই ভোটের জন্য ইউক্রেনীয়দের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন রুশ সেনারা।

দক্ষিণ খেরসনে, রাশিয়ান সেনাদের সাধারণ মানুষের ভোট সংগ্রহের জন্য শহরের মাঝখানে একটি ব্যালট বাক্স বসিয়ে রাখতে দেখা গেছে। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার বিষয়টিকে ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ বলছে রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো।

রাশিয়া-সমর্থিতরা শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার (২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর) লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া প্রদেশে গণভোটের ঘোষণা করে। যা ইউক্রেনের প্রায় ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড বা হাঙ্গেরির আয়তনের সমান এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছে।

তাসের খবরে বলা হয়েছে প্রত্যেকের ভোট নেওয়া হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মেলিটোপোলের একজন নারী বিবিসিকে বলেছেন যে দুই স্থানীয় ‘সহযোগী’ দুই রাশিয়ান সৈন্যের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। তাদের স্বাক্ষর করার জন্য একটি ব্যালট দিতে এসেছিলেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা না সূচক বেছে নিয়েছেন। আমার মা পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। জিজ্ঞেস করা হয় না বেছে নিলে কি হবে। তারা জানায়, কিছু না। আমার মা এখন আতঙ্কিত’।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ইউক্রেনে রাশিয়া-সমর্থিত নেতারা ভোটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এটি পশ্চিমাদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ যা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। তবে এই গণভোট প্রত্যাখ্যান করছে ইউক্রেন। এই ভোটের ফলাফলকে কখনোই তারা স্বীকৃতি দেবে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই ভোটের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জি-৭ নেতারা।

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার আগ্রাসন কিছুটা ধীর গতির এবং ইউক্রেন উত্তর-পূর্বের কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করেছে। এখন পূর্ব ও দক্ষিণে রাশিয়ার সমর্থিত কর্মকর্তারা বলছেন যে তারা রাশিয়ায় যোগদানের বিষয়ে ভোট চান।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে গত ৭ মাস ধরে যুদ্ধ চলছে। দু’দেশের তীব্র লড়াইয়ে অনেক বেসামরিক লোকের প্রাণ গেছে। নিহত হয়েছেন নারী ও শিশুরাও। লাখ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন আর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক গোলযোগ শুরু হয়েছে। বেড়েছে সব খাদ্যপণ্যের দাম।

গণভোটের জন্য কয়েক মাস ধরে মস্কোপন্থি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু ইউক্রেনের সম্প্রতি বেশ কয়েকটি এলাকা পুনর্দখলের জন্য তাদের এই আয়োজন দ্রুত হচ্ছে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনে যুদ্ধের মাঠে আরও ৩ লাখ সেনা নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এই গণভোটের পক্ষে রাশিয়ার যুক্তি যে এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য তাদের মতামত প্রকাশের একটি বড় সুযোগ।

এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের জন্য গণভোটের আয়োজন করে সমালোচনার মধ্যে পড়ে রাশিয়া। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভোটে রাশিয়ার পক্ষে ফলাফল অনিবার্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার গণভোটে কারচুপি হয় বলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির পক্ষে ৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।