অধিকৃত অঞ্চলের ৯৬ শতাংশ ভোটার রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে, দাবি মস্কোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের চারটি অধিকৃত অঞ্চলের ৯৬ শতাংশ ভোটার রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া। সদ্য সমাপ্ত গণভোটের প্রাথমিক গণনা শেষে এমন ফলাফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মস্কো। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ’র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রশ্নে গণভোট শুরু হয়েছিল গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টম্বর)। পাঁচদিন ধরে চলে এই ভোট। এতে ব্যালটবক্স নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান রাশিয়ার নিয়োগ দেওয়া নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

শুরু থেকেই এই গণভোটকে অবৈধ বলে আসছে ইউক্রেন ও তার মিত্র পশ্চিমারা। অধিকৃত অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার সীমানাভুক্ত করতে এই গণভোটের ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে মস্কো বলেছে, এই চারটি অঞ্চল রুশ শাসনের অধীনে আসতে চায় কি না সে সিদ্ধান্ত সেখানকার জনগণই নেবে।

আরআইএ জানিয়েছে, খেরসন অঞ্চলের গণনা হওয়া ১৪ শতাংশ ভোটে দেখা গেছে, ৯৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোটার রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। জাপোরিঝিয়ায় গণনা হওয়া ১৮ শতাংশ ভোটে রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯৮ দশমিক ১৯ শতাংশ মানুষ। আর লুহানস্ক ও দোনেৎস্কে যথাক্রমে ১৩ শতাংশ ও ১৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোটার মস্কোর শাসনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আরআইএ।

jagonews24লুহানস্কের রাস্তায় রুশপন্থি বিজ্ঞাপন। ছবি সংগৃহীত

রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের প্রধান ভ্যালেন্টিনা মাতভিয়েনকো বলেছেন, গণভোটের ফলাফল অনুকূল হলে আগামী ৪ অক্টোবর অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

এই চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের প্রায় ১৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। রাশিয়া যদি সেগুলোকে নিজের সীমানাভুক্ত করতে পারে, তখন মস্কো দাবি করতে পারবে, ইউক্রেনকে দেওয়া ন্যাটো জোট ও পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র দিয়ে তাদের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়া আরও তিন লাখ বাড়তি সৈন্যকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য তলব করেছে। দেশটি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রণক্ষেত্র প্রতিরক্ষায় এদের মোতায়েন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও দিয়ে রেখেছে মস্কো।

এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময়ও সেখানে এ ধরনের গণভোটের আয়োজন করেছিল রাশিয়া। তখন সেই ভোটকেও ‘সাজানো খেলা’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছিল পশ্চিমারা।

ইউক্রেনের চারটি অধিকৃত অঞ্চলে এবারের গণভোটকে একইভাবে অবৈধ বলে নিন্দা করেছে পশ্চিমারা। ইউক্রেন বলছে, পুতিনের সমর্থনে আয়োজন করা এই গণভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে রুশ গণমাধ্যমগুলো বলছে, গণভোটে যে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।