ব্রিটেনের বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে আইএমএফের সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
সংগৃহীত

ব্রিটেনের নতুন বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর লন্ডন হাউস অব কমন্সে সরকারের বার্ষিক বাজেট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন চ্যান্সেলর অব দ্যা এক্সচেকার বা ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেং।

নতুন অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেংয়ের ওপর তার নীতি পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য চাপ তৈরি হচ্ছে। এটি বাজারে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগকারী ও নির্বাহী প্রধানরা পরিকল্পনাটি বাতিল করার কথা বলছেন।

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে তার অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করেছেন। কর কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে স্থবির প্রবৃদ্ধি থেকে বেরিয়ে আসতে চান তিনি।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী তার বাজেট পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুণ করার সঙ্গে সঙ্গে গৃহস্থালি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি বিল দিয়ে সহায়তা করার কথা বলেছেন। শুধু এই অর্থবছরে সরকারি ঋণ ইস্যুতে অতিরিক্ত ৭২ বিলিয়ন পাউন্ড (৭৭ দশমিক ১৭ বিলিয়ন) প্রয়োজন। এটি বিনিয়োগকারীদের হতবাক করেছে।

আইএমএফ বলছে যে এমন প্রস্তাব বৈষম্য বৃদ্ধি করবে এবং এটি জাতীয় নীতির প্রজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আইএমএফের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে, আমরা এই সন্ধিক্ষণে বড় এবং লক্ষ্যহীন আর্থিক প্যাকেজগুলোর সুপারিশ করি না। এটি আইএমফের পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি’।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে আইএমএফের-এর প্রতীকি অর্থে গুরুত্ব রয়েছে।

জানা গেছে, ২৩ নভেম্বর কোয়ার্টেংয়ের বাজেট প্রস্তাব ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে সহায়তা প্রদানের উপায়গুলো বিবেচনা করার প্রাথমিক সুযোগ প্রদান করবে যা আরও লক্ষ্যবস্তু এবং কর ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করবে। বিশেষ করে যেগুলো উচ্চ-আয়ের উপার্জনকারীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করবে। যারা দেড় লাখ ইউরো বা এর বেশি আয় করেন তাদের ওপর কর ৪৫ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হবে। ব্রিটেনে আর নরওয়ের চেয়ে বেশি প্রান্তিক করের হার থাকবে না বলে কোয়ার্টেং ঘোষণা করেছেন। এই পরিবর্তনগুলোর ফলস্বরূপ, সরকার ধারণা করছে যে অর্থবছরের বাকি সময়ে আরও ৭০ বিলিয়ন পাউন্ড (জিডিপির ৩ দশমিক ২%) ঋণ বাড়াতে হবে। ফলে আরও ঋণ নেওয়া প্রয়োজন হবে।

ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী কোয়ার্টেং-এর প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রশংসনীয়, কিন্তু তার পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে কাজ করবে না। এটি রাজনৈতিকভাবেও দমনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্যা ইকোনমিস্ট, রয়টার্স

এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।