শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২২
ফাইল ছবি

রক্ষণশীল ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, দেশের শত্রুরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ইরানকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, কিন্তু সফল হতে পারেনি। খবর এএফপির।

সম্প্রতি পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনি নামে ২২ বছরের এক তরুণীর মৃত্যুর পর থেকেই ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই তরুণী পোশাক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যখন অর্থনৈতিক সমস্যা কাটিয়ে এই অঞ্চলে ও বিশ্বে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছিল, তখনই শত্রুরা আমাদের বিচ্ছিন্ন করার অভিপ্রায়ে মাঠে নামে। কিন্তু তারা এই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি সে সময় বলেন, ‘বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড’ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইরানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে ... তবে বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়’।

ইরানে জনসম্মুখে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরাসহ কঠোর পর্দা পালনের নিয়ম রয়েছে। এই বিধিগুলো তদারক করার জন্য রয়েছে দেশটির ‘নৈতিকতাবিষয়ক’ পুলিশ। নৈতিকতাবিষয়ক পুলিশের একটি দল গত সপ্তাহে মাহসা আমিনিকে তেহরান থেকে আটক করে। আমিনি তার পরিবারের সঙ্গে তেহরানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। আটকের পর মাহসা থানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাহসা আমিনির।

মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয় তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে। প্রথমে ইরানের কুর্দি-জনবহুল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুরু হয় বিক্ষোভ। দেশটির অন্তত ৫০টি শহরে এখনো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কেউ কেউ তাদের ঘোমটা ফেলে দিয়েছে। পুড়িয়ে দিচ্ছে হিজাব। কেউ কেউ প্রকাশ্যে তাদের চুল কেটে ফেলেছে।

এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, দাঙ্গাবাজদের সমর্থন জানিয়ে ইরানে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি দাবি করেন, ওয়াশিংটন সব সময় ইরানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, যদিও তা ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু নেতা এসব দাঙ্গাবাজকে সমর্থন এবং ইরানি শাসনব্যবস্থার সমর্থনে রাস্তায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিকে উপেক্ষা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টিটিএন

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।