ইতালীয় ভ্রমণকারীর বিচারে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

মোহাম্মদ মাহামুদুল
মোহাম্মদ মাহামুদুল মোহাম্মদ মাহামুদুল
প্রকাশিত: ০৯:২৭ এএম, ০৫ অক্টোবর ২০২২
ইতালীয় নাগরিক জর্জ করবিন | ছবি | সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সৌন্দর্য্যমন্ডিত দেশ মালদ্বীপ। শান্ত, মনোরম পরিবেশ, পুরোনো এ সমুদ্র সৈকত দেশটির প্রধান আকর্ষণ। যেখানে পানির রং নীল আর বালির রং সাদা। তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সবগুলো দ্বীপের চারদিকে রয়েছে আকর্ষণীয় সাগরের জলরাশি।

শ্রীলঙ্কা থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল পশ্চিম-দক্ষিণে ১২০০টি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয় মালদ্বীপ। সাদা বালুকাময় সৈকত, স্বচ্ছ সমুদ্র ও রঙিন সামুদ্রিক জীবন দিয়ে শুরু মালদ্বীপের পর্যটনশিল্প।

দেশটি বিশ্বের বুকে আজ এক নম্বর পর্যটন গন্তব্য। এ শিল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ৫০ বছর আগে। যখন একজন ইতালীয় ভ্রমণকারী ভারত মহাসাগরের একটি গুগলের চার্টে দেখেছিলেন; একটি সাদা বালুকাময় সমুদ্র সৈকত।

ইতালীয় ভ্রমণকারীর পরিকল্পনায় পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

১৯৭১ সালে ইতালীয় নাগরিক জর্জ করবিনের নজর কেড়েছিল মালদ্বীপ। তখন তিনি ভেবেছিলেন এটি একটি ভালো গন্তব্য হতে পারে। কিন্তু সেই দেশ, গ্রাম, জায়গা সম্পর্কে কেউ কিছুই জানতেন না। তখন করবিনের নিজের চেষ্টায় জানতে পারে যে শ্রীলঙ্কায় মালদ্বীপের একটি দূতাবাস রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে যান।

তিনি কলম্বোতে মালদ্বীপের দূতাবাসে দেশটির বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহমেদ নাসিমের সঙ্গে দেখা করেন। নাসিম ওই সময় দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। পরের দিন, জর্জ করবিন ও আহমেদ নাসিম সমুদ্রপথে মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তখন মালদ্বীপের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে করবিন তার বাম দিকে একটি ছোট বিল্ডিংসহ হুবলির বিমানবন্দর দেখতে পান। ডানদিকে ছিল রাজধানী। সে সময় করবিন বলেছিলেন এটি ‘স্বর্গ’। নাসিম তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। নাসিমের সঙ্গে তিনি অনেক আইল্যান্ড ঘুরে দেখেন।

ইতালীয় ভ্রমণকারীর পরিকল্পনায় পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

জর্জ করবিনের সঙ্গে বর্তমানে মালদ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উমর মানিক ও ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন আফিফের সঙ্গেও তার পরিচয় করিয়ে দেন।

নাসিমকে জর্জ করবিন জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন আইল্যান্ডে পর্যটকদের থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। উত্তরে তিনি বলেছিলেন কুরুম্বা ও ভিহামানফুশি, ভালো হবে কারণ এটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি। সেই সময়ে, চারজন একসঙ্গে পর্যটন ব্যবসা শুরু করতে রাজি হন। সেই থেকে মালদ্বীপের পর্যটন শিল্প আজ বিশ্বের এক নম্বর।

দেশটির মাথাপিছু আয় ৯ হাজার ১২৬ ডলার যা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের মাথাপিছু আয় সবচেয়ে বেশি। আদিকাল থেকেই সামুদ্রিক মাছ হচ্ছে দেশটির অর্থনীতির মূলভিত্তি। দেশটি টুনা ফিসের জন্য বিখ্যাত। তবে বর্তমানে মালদ্বীপের বড় শিল্প হলো পর্যটন। বৈদেশিক আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে এ খাত থেকে।

দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার গড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি। ১৯৬৫ সালের ২৬ জুলাই মালদ্বীপ ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৬৮ সালে ‘সালাতানাতে মালদ্বীপ’ থেকে ‘রিপাবলিক মালদ্বীপে’ পরিণত হয়।

ইতালীয় ভ্রমণকারীর পরিকল্পনায় পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো একদল পর্যটক জর্জ করবিনের সঙ্গে মালদ্বীপে ভ্রমণে আসেন। ওই সময় প্রায় ২০ জন ছিলেন দলে। বেশিরভাগই ছিলেন ইতালীয় সাংবাদিক। সেই বছরের ৩ অক্টোবর, মালদ্বীপের প্রথম পর্যটন রিসোর্ট, ভিহামানফুশিতে কুরুম্বা নামক আইল্যান্ড খোলা হয়। যার নাম এখন হচ্ছে ‘কুরুম্ভা রিসোর্ট’।

গতকাল ছিল সেই দিন; মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পের ৫০ বছর পূর্তি। এখন মালদ্বীপে ১০০টিরও বেশি রিসোর্ট, ৮০০ এর বেশি গেস্ট হাউস এবং ১০০টিরও বেশি সাফারি বোটসহ মালদ্বীপ এখন বিশ্বের বুকে একমাত্র প্রথম পর্যটন গন্তব্য। পর্যটন শিল্পটি মালদ্বীপের অনেক কাঠামোগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এনেছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট গত জুলাই ‘৩ অক্টোবর’কে জাতীয় পর্যটন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। দিনটি ১৯৭২ সালে কাফু অ্যাটলের ভিহামানফুশি দ্বীপে, কুরুম্বা গ্রামের প্রথম রিসোর্টের উদ্বোধনী দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য মালদ্বীপে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।

এমআরএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।