স্নায়ুযুদ্ধের পর পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে বিশ্ব: বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০২ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০২২
সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো মানবসভ্যতা-বিধ্বংসী পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে (আরমাগেডন) পড়েছে বিশ্ব, এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) এমন মন্তব্য করেন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে হুঁশিয়ারি আসার পরই এমন মন্তব্য করলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্থানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টার কথাও বলেন। তিনি আরো বলেন, রাশিয়ান নেতা ‘কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বা জৈবিক বা রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে রসিকতা করছেন না’।

নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বাইডেন আরো বলেন, ‘আমরা কেনেডি এবং কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়িনি’।

এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন সতর্ক করে বলেন যে তিনি রাশিয়ার মাটিকে রক্ষা করতে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগারসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত উপায় ব্যবহার করবেন। এতে ইউক্রেনের অধিকৃত ৪টি অঞ্চলকেও ধরা হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ( ৬ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের সেনারা আরো পাঁচশ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে। শনিবার থেকে দক্ষিণ খেরসনে বসতি স্থাপনের কথাও জানান তিনি।

দক্ষিণাঞ্চলীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র নাতালিয়া গুমেনিউক বলেছেন, পুনরুদ্ধার করা অঞ্চলটিতে প্রায় ৩০টি শহর ও গ্রামের ঘর বাড়ি রয়েছে যা কয়েক মাস ধরে রাশিয়ান বাহিনীর দখলে ছিল।

যুদ্ধ শুরুর আগে খেরসনে লোকসংখ্যা ছিল অন্তত ১০ লাখ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ সেনারা হামলার পরপরই এই অঞ্চলটি দখলে নেয়। এদিকে, রুশ সমর্থিত নেতারা ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ইউক্রেনের অধিকৃত চার অঞ্চলকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মস্কো থেকে দেওয়া এক ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি। পুতিন বলেন, ওই চার অঞ্চলের জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ফলাফল সবারই খুব ভালোভাবে জানা।

ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রশ্নে গণভোট শুরু হয়েছিল গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর)। পাঁচদিন ধরে চলে এই ভোট। গণভোটে ৯৬ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে মত দিয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। যদিও এই ভোট এবং এর ফলাফল অস্বীকার করছে ইউক্রেন ও পশ্চিমারা। এই চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের প্রায় ১৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

সূত্র: রয়টার্স

এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।