পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধান

পূর্ব পাকিস্তানকে হারাতে হয়েছে রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২
পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া /ছবি: সংগৃহীত

‘পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) আলাদা হয়ে গিয়েছিল। সে সময় পাকিস্তানের লড়াইরত সৈন্যসংখ্যা ৯২ হাজার নয়, মাত্র ৩৪ হাজার ছিল। বাকিরা বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বরত ছিলেন। এত অল্প সংখ্যক সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর আড়াই লাখ ও মুক্তিবাহিনীর দুই লাখ সদস্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।’

বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এমন একটি বিষয় নিয়ে আমি কথা বলছি, যা অনেকেই এড়িয়ে যান। বিষয়টি হলো ১৯৭১ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) সেনাদের (পশ্চিম পাকিস্তানের) আত্মসমর্পণ। আসলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আলাদা হয়ে যাওয়াটা আমাদের সামরিক ব্যর্থতা নয়, রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল।

‘ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর মিলিত সৈন্যের তুলনায় আমাদের সৈন্য সংখ্যা অনেক কম ছিল। তারপরও আমাদের সেনাবাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে ও অনুকরণীয় ত্যাগ স্বীকার করেছে।’

তিনি বলেন, সেসময় পাকিস্তানী সেনাদের আত্মত্যাগের কথা সাবেক ভারতীয় সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মানেকশ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন। অথচ সেনাবাহিনীর ওই আত্মত্যাগকে পাকিস্তানের কোনো সরকারই এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি, যা বিশাল অন্যায়।’

বিদায়ী এ সেনাপ্রধান বলেন, এ সুযোগে আমি আত্মত্যাগ করা সেনাদের অভিবাদন জানাই। তারা আমাদের বীর সন্তান। তাদের জন্য আমাদের পুরো জাতির গর্ব করা উচিত।

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন জেনারেল বাজওয়া। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে বেআইনি হস্তক্ষেপ করেছে, তবে সামনের দিনগুলোতে সেনাবাহিনী আর এ ধরনের কাজ করবে না।

তিনি বলেন, কেন ভারতের সেনাবাহিনী তাদের জনগণের কাছে সমালোচনার শিকার হয় না? কারণ, তারা দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না। বাস্তবতা হলো আমাদের সামরিক বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সবাই ভুল করেছে।

‘গত ৭০ বছর ধরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী যেভাবে হস্তক্ষেপ করে এসেছে, তা অসাংবিধানিক। তাই গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আশা করি, এখন থেকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আচরণগুলো বিশ্লেষণ করবে।’

দেশটির অনিশ্চিত অর্থনৈতিক গন্তব্য তুলে ধরেন তিনি বলেন, দেশের সব অংশীদারকে সবকিছু ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তা না ছাড়া এমন সংকট থেকে বের হওয়ার আর কোনো উপায় নেই।

২০১৬ সালে তিন বছরের জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান নিযুক্ত হয়েছিলেন জেনারেল বাজওয়া। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংসদে সেনাপ্রধানের মেয়াদ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে তার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়। টানা ছয় বছর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এ মাসের শেষের দিকে অবসরে যাচ্ছেন তিনি।

সূত্র: ডন

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।