ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচাতে মশারির ভেতর ফুটবল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

শুধু কলকাতা নয়, গোটা বিশ্বই এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। অলিতে-গলিতে, বড় রাস্তার মোড়ে, বাড়ির ছাদে, গাড়ির বনেটে প্রিয় দলের পতাকা লাগিয়েছেন, কাউকে আবার প্রিয় দলের জার্সি গায়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যাচ্ছে।

পাড়ার ক্লাবগুলোতে ফাঁক পেলেই ফুটবল নিয়ে নেমে পড়ছে কচিকাঁচারা। কলকাতাও তার ব্যতিক্রম নয়। এই শহরের পথ শিশুদেরও খেলতে ইচ্ছা করে, ইচ্ছা করে মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারদের হয়ে গলা ফাটাতে। কিন্তু কোথাও যেন সেই ভরসাতে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। আসলে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেভাবে বাড়ছে তাতে রীতিমত আশঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

ফলে ফুটবল খেলতে যাওয়ার আগে অনেক বাবা-মায়েরাই দুইবার ভাবছেন যে, খোলা মাঠে ফুটবল খেলতে পাঠিয়ে তাদের ছেলেমেয়েরা যদি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন! তাছাড়া ফুটবল যেমন ইনডোর গেম নয়, তেমনি এমন নিশ্চয়তাও কেউই দিতে পারে না যে ফুটবল মাঠে একটি মশাও প্রবেশ করবেন না বা ডেঙ্গু মশা গায়ে হুল ফোটাবে না।

কিন্তু এমনটা যদি হয়! ফুটবল খেলাও হবে অথচ মশাও নিরাপত্তার বেড়াজাল ছিন্ন করে মাঠে প্রবেশ করতে পারবে না!

এমনটাই ভেবেছেন এক চিকিৎসক। ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে মশারি। আর খেলার জন্য ফুটবল। দুটোই বিনামূল্যে দিচ্ছেন ওই চিকিৎসক।

ওই ডাক্তার চান ওরা ফুটবল খেলুক। কিন্তু মশার কামড় যেন না খায়। খেলতে গিয়ে ডেঙ্গু যাতে না হয়, তাই একটা ছোট মাঠের সমান আয়তনের মশারি অর্ডার দিয়ে বানিয়ে দেন চিকিৎসক অজয় মিস্ত্রি। সেই সঙ্গে দিলেন নানা দেশের জার্সি, পতাকা। আর ফুটবল।

বৃহস্পতিবার সকলের দিকে দক্ষিণ কলকাতার খিদিরপুরে হেস্টিং ক্রসিং ব্রিজের নিচে অনুষ্ঠিত হলো এক অনুষ্ঠান।

১৯ ফুট বাই ২০ ফুটের বিশাল বড় মশারি টাঙিয়ে তার ভেতর ফুটবল খেললো পথশিশুরা।

চিকিৎসক জানান, বিগত দুই দুই বছর করোনার কারণে তারা বাড়ির বাইরে খেলতে বের হয়নি। ফলে বাচ্চারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশ্বকাপের আনন্দে এই বাচ্চাগুলো খেলতে চায়। অন্যদিকে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি। স্বাভাবিকভাবে আমি চাই খেলতে গিয়ে যাতে কেউ ডেঙ্গুতে সংক্রমিত না হয়।

সব কিছু দেখে কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলছেন ভাগ্যিস কলকাতা শহরে বিশ্বকাপের আসর বসেনি! নাহলে মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারদেরও ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচাতে মশারি খাঁটিয়ে ফুটবল খেলার আয়োজন করতে হতো ফিফাকে।

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।