মাইক্রোসফট, অ্যাকটিভিশন-বিলিজার্ড: গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৮ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

চলতি বছর সবচেয়ে ভালো আয় করা ছবির নাম ‘টপ গান: মেবারিক’। রিলেজের প্রথম মাসেই ছবিটি বাজার থেকে তুলে নেয় একশ কোটি ডলার। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় গেম ‘কল অব ডিউটি: মর্ডান ওয়ারফেয়ার দ্বিতীয়’ একই পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে তুলে নিতে সময় নেয় মাত্র ১০ দিন। করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে ভিডিও গেমের পরিধি বেড়েছে। ২০২০ সালে এর কার্যক্রম বেড়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। চলতি বছর বিশ্বজুড়ে গেম ইন্ডাস্ট্রির মূল্য দাঁড়াতে পারে ১৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা বিশ্বের বক্স অফিসের আয়ের থেকে পাঁচগুণ বেশি।

এদিকে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হওয়ায় নিয়ন্ত্রকদের নজরও বেড়েছে। জানুয়ারিতে মাইক্রোসফট ৬৯ বিলিয়ন ডলারে গেমিং কোম্পানি অ্যাকশন-বিলিজার্ড কিনে নিতে রাজি হয়, যা মাইক্রোসফট ও গেমিং ইন্ড্রাস্ট্রির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা। এরপর কমপক্ষে ১৬টি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রকরা তাদের মধ্যে চুক্তির ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে। গত দুই মাসে ব্রিটেনের প্রতিযোগিতা-বাজার কর্তৃপক্ষ ও ইউরোপীয় কমিশন এ ব্যাপারে যাচাই-বছাই করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বাণিজ্য কমিশনও একই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর ওই চুক্তি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে।

ডাটা কোম্পানি মিডিয়া রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টবাস্টারদের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ হলো কনসোল মার্কেট বা গেম বাজার। দুই দশক ধরে সনি এবং নিনটেনডোর ‘কনসোল যুদ্ধে’ শীর্ষে রয়েছে। যদিও সরবরাহ-চেইন সমস্যাগুলো সনির সবশেষ প্লেস্টেশনের বিক্রয়কে বাধাগ্রস্ত করেছে।

বর্তমানে সনির উদ্বেগ হলো গেমাররা প্লেস্টেশন ছেড়ে দিতে পারে যদি মাইক্রোসফ্ট ‘কল অব ডিউটি’ এক্সবক্সের জন্য একচেটিয়া করে তোলে।

সনির অভিযোগ কিছুটা সমৃদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। ওমডিয়া গবেষণা সংস্থার জর্জ জিজিয়াশভিলি বলেছেন, কনসোল প্লেয়ারদের কেউই এক্সক্লুসিভিটি প্রচার করার অবস্থানে নেই। তাছাড়া সনি প্লেস্টেশনের গেম ‘অনচার্টেড’ ও ‘গড অব ওয়ার’ এক্সবক্সের বাইরে রেখেছে। তাই মাইক্রোসফ্ট যদি কল অব ডিউটি প্লেস্টেশনে রাখে তাহলে সেখান থেকে বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে।

বেশ কিছু সমীকরণে গেমিং বাজারে পরিবর্তন আসছে। মাইক্রোসফট তার বর্তমান অবস্থানের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে এগোচ্ছে। গেম বাজার, কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের ক্ষেত্রে কোম্পানিটি ভালো অবস্থানে না থাকলেও উদীয়মান বাজারে ভালো করছে। যেমন ক্লাউডভিত্তিক গেমিং ও গেম সাবসক্রিপশনের ক্ষেত্রে। গেমিং বাজারের ৪১ শতাংশ সাবসক্রিপশন মাইক্রোসফটের। সনির রয়েছে ৩০ শতাংশ ও নিনটেনডোর রয়েছে ১০ শতাংশ।

গেম পাস সার্ভিসেও রয়েছে মাইক্রোসফটের উল্লেখযোগ্য অবদান। কল অব ডিউটি যদি তাদের লাইব্রেরিতে যোগ হয় তাহলে গেম পাস আরও আকর্ষণীয় হবে।

সাবসক্রিপশন ও ক্লাউড গেমিংয়ের যুগ প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে মাইক্রোসফট। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। তবে এই ধরনের পরিবর্তন পুরোদমে কবে হতে পারে তা অস্পষ্ট। সাবসক্রিপশন গেমিং দ্রুত বাড়ছে। তবে এক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ১০ শতাংশ ব্যয় থাকতে পারে। তাছাড়া ক্লাউড গেমিংও এখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।

ভালো সাড়া না পাওয়ায় জানুয়ারিতে গুগল তাদের স্ট্যাডিয়া বন্ধ করে দেবে। এদিকে অ্যামাজনের লুনা সার্ভিস এখনো চালু হয়নি। ক্লাউড গেমিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে মাইক্রোসফট। কিন্তু তারপরও গেমিং ব্যয়ে ক্লাউড স্টিমিং সার্ভিসের অবদান এক শতাংশের নিচে।

এমএসএম/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।