কোম্পানিগুলোর মূল চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি-মন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক বছর ধরে বড় উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এ সময় যেমন ছিল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, তেমনি ছিল মহামারি ও যুদ্ধ। এগুলো অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এখনো বিশ্বের সামনে আশাব্যঞ্জক কোনো খবর নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মতো দুই শত্রু দৃশ্যমান। তাই অবশ্যই এ এগুলোর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিতে হবে। সবশেষ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সত্তরের দশকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে আজকের দিনে যারা কোম্পানিগুলোর নির্বাহী পদে রয়েছেন, তাদের কী করা উচিত বা কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ২০২২ সালে বেশ কিছু কারণে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য কমে যায়। মোটর কোম্পানি ফোর্ড জানায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের ব্যয় হয়েছে এক বিলিয়ন ডলার, যা পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।

ইউরো অঞ্চলের কোম্পানিগুলোতে উৎপাদন মূল্য বার্ষিকভিত্তিতে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সেখানে জ্বালানির মূল্য বাড়ায় এমন হয়েছে। তবে আশার কথা হলো উৎপাদন খরচ বাড়লেও ভোক্তাদের চাহিদা এখনো শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে। কারণ, করোনা মহামারির সময় শুরু হওয়া বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রণোদনা এখনো চলমান, যা আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

লাভ ধরে রাখতে ২০২৩ সালে ব্যবস্থাপকরা দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। প্রথমটি হচ্ছে, উৎপাদন খরচের ব্যাপক বৃদ্ধি। যদিও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ হতে পারে। তারপরও এমন একটি অবস্থানে এটি থাকবে, যা মজুরি ও অন্যান্য মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয় চাপটি আসতে পারে চাহিদার পতনের মধ্যে দিয়ে। ইউরোপের সরকারগুলো পদক্ষেপ নিলেও ভোক্তারা কম ব্যয় করবে। কারণ, তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানোর ফলে চাপে পড়তে যাচ্ছে অর্থনীতি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলোটির করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৯ শতাংশ আর্থিক কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে স্থবিরতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

স্থবিরতার বিভিন্ন উপাদান যেহেতু অনিবার্য, তাই কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা মিশ্র কৌশল প্রণয়ন করবেন। তাদের অনেকেই উৎপাদন ব্যয় ভোক্তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করবেন। ২০২২ সালে ম্যাকডোনাল্ডস ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রিটেনে চিজবার্গারের দাম বাড়িয়েছে। অন্যান্য কোম্পানিও একই পথে হেঁটেছে। তবে এই বিষয়টি স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ এটি ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা কোম্পানির মার্কেট শেয়ার বা আয় কমিয়ে দিতে পারে।

মূল্য বাড়িয়ে অনেক কোম্পানিই ভালো করতে পারবে না। কারণ, এতে ভোক্তারা দূরে সরে যেতে পারেন। তাই অনেকে সংকোচন নীতি বাস্তবায়ন করবে। যেমন- চকলেট আকারে ছোট করে মূল্য একই রাখবে। কেউ কেউ দক্ষতা লাভের মাধ্যমে খরচ ধরে রাখতে চাইবে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ফলে এরই মধ্যে ইউরোপের কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যেও অনেক ভালো কোম্পানির আবির্ভাব হবে। তাছাড়া, অসুবিধায় থাকা বিনিয়োগকারীরা ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও বাজার শেয়ারের ধসে নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করবে। কিন্তু সমস্যার মধ্যে যারা ভালো করবে তাদের সুনাম অনেক বেড়ে যাবে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
এমএসএম/কেএএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।