‘সিটি অব জয়’ উপন্যাসের লেখক দমিনিক লাপিয়ের আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২
দমিনিক লাপিয়ের/ ছবি: সংগৃহীত

কলকাতাকে নিয়ে লেখা ‘সিটি অব জয়’ উপন্যাসের লেখক দমিনিক লাপিয়ের মারা গেছেন। রোববার (৪ নভেম্বর) বার্ধক্যজনিত কারণে ৯১ বছর বয়সে মারা যান বিখ্যাত এ ঔপন্যাসিক। দমিনিক লাপিয়েরের স্ত্রী দমিনিক কশঁ-লাপিয়ের ফরাসি সংবাদপত্র ভাখ-মাতাঁকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লাপিয়ের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস লিখেছেন। তাছাড়া ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি তার বিশেষ টান ছিল। এ কারণেই তিনি কলকাতাকে নিয়ে লেখা ‘সিটি অব জয়’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন, যার কারণে তিনি উপমহাদেশের পাঠকদের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

দমিনিক লাপিয়ের ১৯৩১ সালের ৩০ জুলাই ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র তীরবর্তী শাতেলেইলন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মার্কিন লেখক ল্যারি কলিন্সের সঙ্গে যৌথভাবে তার লেখা ছয়টি বই সারাবিশ্বে প্রায় ৫ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে।

‘ইজ প্যারিস বার্নিং?’ বইয়ের পরেও ল্যারি কলিন্সের সঙ্গে যৌথ সাহিত্য প্রয়াস অব্যাহত রাখেন লাপিয়ের। পরবর্তীতে এ জুটি ‘অর আই উইল ড্রেস ইউ ইন মোনিং’ (১৯৬৮), ‘ও জেরুজালেম’ (১৯৭২), ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ (১৯৭৫), ‘দ্য ফিফথ হর্সম্যান’ (১৯৮০) ও থ্রিলার ‘ইজ নিউ ইয়র্ক বার্নিং?’ এর মতো সাহিত্য রচনা করেছেন।

লাপিয়েরের সবচেয়ে বিখ্যাত বই হলো ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত ‘ইজ প্যারিস বার্নিং?’। এ বইটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১৯৪৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ১৯৬৬ সালে প্রখ্যাত ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক রেনে ক্লেমেন্ট বইটিকে চলচিত্রে রূপ দেন।

১৯৮৫ সালে ভারতের কলকাতা শহরের এক রিকশাচালকের কষ্টের জীবন নিয়ে ‘সিটি অব জয়’ উপন্যাসটি লেখেন লাপিয়ের। এ উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯২ সালে বিখ্যাত ব্রিটিশ পরিচালক ও প্রযোজক রোনাল্ড জোফে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

লাপিয়ের বইটি থেকে পাওয়া রয়্যালটির অর্থ ভারতে মানবিক সহায়তা প্রকল্পের জন্য দান করেছিলেন। তার এ বদান্যতার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাকে ‘পদ্ম ভূষণ’ পদক দেয়।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।