বিশ্বকাপের পরও কাতারে থাকার সুযোগ চান অভিবাসী শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২
কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামের ফ্যান জোনে বসে ইংল্যান্ড-সেনেগাল ম্যাচ উপভোগ করেন অভিবাসী শ্রমিকরা/ ছবি: সংগৃহীত

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কাতারের মতো মরুর দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে, সেসব অভিবাসী শ্রমিক মহা এ আসর শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কাতারে থাকতে চান। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও কাতার সরকার যদি শ্রমিকদের বসবাস ও কাজের অনুমতি দেয়, তাহলে সেটিই হবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

রোববার (৪ নভেম্বর) আল বাইত স্টেডিয়ামের ফ্যান জোনে বসে ইংল্যান্ড-সেনেগাল ম্যাচ উপভোগ করছিলেন অসংখ্য অভিবাসী শ্রমিক। তাদের মধ্যে আফ্রিকানও ছিলেন অনেকে। সেনেগালের পরাজয়ের চেয়ে অন্য একটি বিষয়ে তাদের বেশি উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে।

তাদের উদ্বিগ্নতার মূল কারণ হলো, দেশে ফিরে যেতে হবে। দিন যত এগোচ্ছে, বিশ্বকাপের সমাপ্তি ততই ঘনিয়ে আসছে। নিজ নিজ দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই অসংখ্য শ্রমিক কাতারে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা আরও বেশি খারাপ। এমন পরিস্থিতিতে তারা কেউই নিজ দেশে ফিরতে চান না।

jagonews24

পূর্ব আফ্রিাকার উগান্ডা থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক ওয়ামবাকা আইজ্যাক বলেন, যারা কাতারে কেবল বিশ্বকাপের কাজ করতে এসেছিলেন, তাদের এ আয়োজন শেষ হওয়ার পর হয়তো চলে যেতে হবে। তবে, আমি এখানে থেকে যেতে চাই। কারণ, কাতার ছাড়া আমি অন্য কোথাও আমার ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, কাতারে অন্য আরও অনেক কাজ আছে। অফিস-দোকানপাট, রাস্তা পরিষ্কারের কাজসহ অনেক কাজ পাওয়া যাবে এখানে। তাছাড়া, কাতারে এখন পুরোদমে নির্মাণকাজ চলছে। কোনো না কোনো কাজ পেয়েই যাবো।

উপসাগরীয় অঞ্চলের ছোট দেশ কাতারের আয়তন মাত্র ১১ হাজার ৫৮১ বর্গকিলোমিটার। এটির জনসংখ্যা মাত্র ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৪, যার অধিকাংশই আবার অভিবাসী। অর্থাৎ মূল কাতারিদের চেয়ে দেশটিতে অভিবাসীদের সংখ্যা বেশি।

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বাস্তবায়নের জন্য অবকাঠামোগত নির্মাণকাজসহ অন্যান্য কাজে ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দরিদ্র দেশ থেকে নতুন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক নেয় কাতার।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিসমৃদ্ধ ধনী এ দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, স্টেডিয়াম ও বিশ্বকাপের আসরসংক্রান্ত অবকাঠামোগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যাবস্থা রাখেনি কাতার।

এদিকে, অভিবাসী শ্রমিকরা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল কাতারের আবহাওয়া।

কেনিয়া থেকে আসা এক শ্রমিক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমি লুসাইল স্টেডিয়ামে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। কাতারের ভয়াবহ গ্রীষ্মকালে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যেতাম।

তিনি আরও বলেন, এখানে কাজের পরিবেশ ও শর্তও বেশ অদ্ভুত ও কঠিন। আমি একজন ঠিকাদারের অধীনে কাজ করি। তার নির্দেশে এখন আমি ট্রাফিক মার্শাল হিসেবে কাজ করছি। কিন্তু যদি আগামিকাল আমাকে নির্মাণ কাজে ফিরে যেতে বলা হয়, আমাকে আবার আগের কাজে ফিরে যেতে হবে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দেশে ফিরে যেতে চান না কারণ, অনেকের দেশেই পর্যাপ্ত চারকি নেই। অর্থনৈতিক সংকট তো আছেই, সেই সঙ্গে দেশগুলোতে বেকারত্বের হারও অনেক বেশি।

বাংলাদেশের শ্রমিক রহিম বলেন, আমি সাড়ে তিন বছর ধরে কাতারে আছি। এখানে এখন রাইড শেয়ারিং অ্যাপের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছি। কাতারে থেকে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। কারণ আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানে কোনো কাজ নেই।

‘সপ্তাহের প্রতিটি দিনই আমি কাজ করি। নিজের নেই বলে একটি কোম্পানি থেকে গাড়ি নিয়ে চালাই। সারাদিনে যা আয় করি, তার একটি অংশ কোম্পানিকে দিতে হয়। তারপর যা বাকি থাকে, তা থেকে নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানোর পর বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়।’

রহিম বলেন, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তিনি কাতার আসতে চান। কিন্তু তাদের এখানে আনতে যে অর্থের প্রয়োজন, তা আমি এখনও জমাতে পারিনি।

অবশ্য, সবার অবস্থা রহিম অথবা আইজ্যাকের মতো নয়। জোনাথন নামের আরেক উগান্ডান শ্রমিক বলেন, শিগগির নিজের দেশে ফিরতে চাই। চুক্তিপত্রে যতদিন আমার থাকার কথা, ঠিক ততদিন আমি কাতারে থাকবো।

সূত্র: এবিসি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofe[email protected] ঠিকানায়।