বিশ্বকাপে ভক্ত-পরিবারের ভালোবাসাই মরক্কোর ‘জাদুর কাঠি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

এবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্যতম ফেভারিট ভাবা হচ্ছিল বেলজিয়ামকে। কিন্তু সেই দলটিকেই ২-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে মরক্কো। গ্রুপ এফের ওই ম্যাচে জয় নিশ্চিতের পর গ্যালারিতে থাকা মায়ের কাছে ছুটে যান পিএসজির মরক্কান ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমি। তাদের আলিঙ্গন আর একে অপরের কপালে স্নেহমাখা চুমুর ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মায়ের সঙ্গে সেই ছবি পরে টুইটার-ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন হাকিমি নিজেও। ক্যাপশনে লিখেছেন ‘তোমাকে ভালোবাসি, মা’। তবে বিশ্বকাপে ছেলেকে উৎসাহ দিতে কেবল হাকিমির মা-ই কাতারে গেছেন, তা কিন্তু নয়।

পরিবারের ভালোবাসা
কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই এবং রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজার নির্দেশে মরক্কোর স্কোয়াডের সব সদস্যের পরিবার থেকে নির্বাচিত সদস্যদের কাতারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, অভিভাবকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মরক্কোর টিম হোটেল উইন্ডহাম দোহা ওয়েস্ট বে।

রেগরাগুইয়ের মা ফাতিমার মতো অনেকের জন্যই এটি হয়ে উঠেছে জীবনের সেরা সফর। মরক্কোর স্পোর্টস চ্যানেল আরিয়াদিয়ার কাছে ফাতিমা বলেন, খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে পুরো ক্যারিয়ারে কখনো তাকে (রেগরাগুই) দেখার জন্য কোথাও যাইনি। আমি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছি এবং এটিই প্রথম প্রতিযোগিতা, যার জন্য প্যারিস ছেড়েছি।

মিডফিল্ডার আবদেলহামিদ সাবিরির বাবা-মা খুবই ক্যামেরা-প্রিয়। যেখানেই যান ক্যামেরা সঙ্গে থাকে। তাদের গত কয়েকদিন কেটেছে চেলসির মিডফিল্ডার হাকিম জিয়াচ, সেভিলার গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো, কোচ রেগরাগুইয়ের সঙ্গে ছবি তুলে ও ঘোরাঘুরি করে।

যখনই তাদের সামনে কোনো টিভির মাইক্রোফোন ধরা হয়েছে, মরক্কোর খেলোয়াড়দের বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে কীভাবে গর্ব করছেন এবং কীভাবে তারা স্কোয়াডের সবাইকে নিজের ‘ছেলে’ মনে করেন, তা খুশিমনে বর্ণনা করেছেন সাবিরির বাবা-মা।

অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে আসার এই পরিকল্পনার পেছনে মরক্কান কোচের উদ্দেশ্য ছিল দলের চারপাশে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যার ফলাফল পাওয়া যাবে মাঠের মধ্যে। এই পর্যায়ে বলাই যায়, রেগরাগুইয়ের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। তাই হয়তো কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বলেছিলেন, পিতামাতার খুশি ছাড়া আমাদের সাফল্য সম্ভব নয়।

jagonews24

তবে অভিভাবকদের পাশাপাশি আরও একটি জাদুর কাঠি রয়েছে মরক্কোর। তা হলো কাতারের স্টেডিয়ামে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতি ও উৎসাহ।

হোমগ্রাউন্ডের পরিবেশ
কাতারে প্রায় ১৫ হাজার মরক্কান প্রবাসী রয়েছেন। আর খেলা দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গেছেন আরও কয়েক হাজার সমর্থক। ফলে উপসাগরীয় দেশটিতে প্রায় ঘরের মাঠের মতো সমর্থন পাচ্ছেন মরক্কোর ফুটবলাররা।

ভক্তরা কীভাবে টিম মরক্কোকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, তার চমৎকার উদাহরণ হতে পারে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ। খেলার মাত্র ১৫ মিনিট বাকি থাকতে ১-০ গোলে লিড নেয় মরক্কো। এরপর তারা চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

jagonews24

এই বিশ্বকাপ ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকায় হলে স্বভাবতই স্টেডিয়ামে কম সমর্থক পেতো মরক্কো। তখন সেই ১৫ মিনিটকে এক ঘণ্টার মতো মনে হতে পারতো। কিন্তু কাতারে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো দৃশ্য। আল থুমামা স্টেডিয়ামে যখনই বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা বল পাচ্ছিলেন, তখনই শিস ও প্রবল দুয়োধ্বনি আসছিল গ্যালারি থেকে। আর মরক্কান ফুটবলাররা বল পেলে রীতিমতো গর্জন শুরু হয়ে যাচ্ছিল।

তাই তো গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর মরক্কান কোচ স্পষ্ট বলেছেন, আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলছি, সমর্থকরা না থাকলে আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারতাম না!

বিশ্বকাপে মরক্কো কোনো ফেভারিট দল নয়। তবে ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথমবার দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছে তারা। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।