পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা মানুষটিকে চেনেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

নাম রবার্ট ওয়াডলো। কেউ কেউ তাকে ‘দ্য জায়ান্ট অব ইলিনয়েস’ বলেও চেনেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই লোকটিই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষ, অন্তত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাব সেটিই বলছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ওয়াডলোর তরুণ বয়সের একটি ছবি টুইটারে শেয়ার করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। এতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওয়াডলোর দীর্ঘকায় শরীরের পার্থক্য স্পষ্ট দেখা যায়।

গিনেসের তথ্যমতে, ১৯৫৫ সালে হিসাব রাখা শুরুর পর থেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা মানুষের বিশ্বরেকর্ড ধরে রেখেছেন রবার্ট ওয়াডলো। সবশেষ ১৯৪০ সালের ২৭ জুন তার উচ্চতা মাপা হয়েছিল ৮ ফুট ১১.১ ইঞ্চি (২ দশমিক ৭২ মিটার)।

ওয়াডলোর জন্ম হয়েছিল আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মতো স্বাভাবিক উচ্চতার বাবা-মায়ের ঘরে। ১৯১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্মের সময় তার ওজন ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৮৫ কেজি।

কিন্তু বয়স পাঁচ বছর হতে না হতেই ওয়াডলোর উচ্চতা দাঁড়ায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। এ জন্য শিশু বয়সে তাকে কিশোরদের জন্য তৈরি পোশাক পরতে হতো। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি তার ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা বাবাকে ছাড়িয়ে যান। যে বয়সে অন্য শিশুরা বাবা-মায়ের কোলে ঘোরেন, সেই বয়সে ওয়াডলো উল্টো বাবা-মাকেই কোলে তুলতে পারতেন।

১৭ বছর বয়সে এ কিশোরের উচ্চতা দাঁড়ায় ৮ ফুট ০.৫ ইঞ্চি। এর ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা কিশোরে পরিণত হন তিনি।

 

ওয়াডলোর এমন দীর্ঘকায় শারীরিক গঠনের পেছনে মূল কারণ পিটুইটারি গ্লান্ডের হাইপারপ্লাসিয়া। এর প্রভাবে তার দেহে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য দায়ী হরমোনের পরিমাণ ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

তবে অতিরিক্ত লম্বা হওয়ার কারণে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখেও পড়েন রবার্ট ওয়াডলো। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার এসব সমস্যাও বাড়তে থাকে।

শেষপর্যন্ত মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৪০ সালের ১৫ জুলাই মিশিগানের একটি হোটেলে মারা যান পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা মানুষটি। অবশ্য তার মৃত্যুর কারণ ছিল পায়ের ফোঁড়া।

পরে দীর্ঘকায় মানুষটিকে ১০ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা, ৩২ ইঞ্চি চওড়া ও ৩০ ইঞ্চি উচ্চতার একটি বিশাল কফিনে রেখে অলটনের ওকউড কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।