ব্রাজিলে এখন একটাই চাওয়া, ‘হেক্সা বিশ্বকাপ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিল ফুটবল দলে পুরোনো ছন্দ কিছুটা হলেও ফিরে এসেছে। কিন্তু সেটি কি বিশ্বকাপ জেতার জন্য যথেষ্ট? ব্রাজিলের বাতাসে আজ কান পাতলে উত্তরটা ঠিকই ‘হ্যাঁ’ শোনা যাবে। সিংহভাগ ব্রাজিলিয়ানের মনে কোনো সন্দেহ নেই যে, ২০ বছর পর সেলেকাওরা ‘হেক্সা’ অর্থাৎ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে আনছেন।

ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর সাও পাওলোয় তত্ত্বাবধায়কের কাজ করেন হার্মিসন ক্যাব্রাল। তিনি তার আশপাশের বাড়িঘরে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। গত মাসে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বাসিন্দারা ফুটবলে মগ্ন। প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদ-বারান্দায় ঝুলছে ব্রাজিলিয়ান পতাকা।

jagonews24

ক্যাব্রাল বলেন, ব্রাজিলের খেলা থাকলে অনেকে দ্রুত কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসেন, যেন পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে খেলা দেখতে পারেন।

৩৫ বছর বয়সী এ ব্রাজিলিয়ানের বিশ্বাস, কাতার বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলবে ব্রাজিল ও ফ্রান্স। আর তাতে ফরাসিদের হারিয়ে হেক্সা জিতবে সেলেকাওরা।

ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনায় বিশ্বাসী শুধু ক্যাব্রালই নন। আপোয়েমার সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ৭১ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান মনে করেন, এ বছর শিরোপা জিতবে তাদের দল।

jagonews24

কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রাজিলের সর্বত্র প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ। বার, অফিস, যানবাহন- সবখানেই কথাবার্তার প্রধান ইস্যু এখন ফুটবল ও বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজধানী রিও ডি জেনিরোতে একটি ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে লোকজন ম্যাচ ও কনসার্ট দেখতে পারছেন। এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচ পর্যন্ত শহরটিতে থিম পার্টিরও আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রাজিলিয়ানদের ব্যবসাও জমজমাট হয়েছে। সবখানেই দেখা যাচ্ছে ব্রাজিল ফুটবল দলের জার্সি। বিশ্বকাপ শুরুর পর জার্সির ব্যাপক চাহিদা দেখে অবাক রীতিমতো অবাক জোয়াও পেসোয়ার ৩০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী সিন্তিয়া সাম্পাইও।

jagonews24

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় (নভেম্বরে) বিক্রি বাড়তে শুরু করেছিল। কারণ রাজনৈতিক দলের কিছু লোক এটি [জার্সি] পরতো। নির্বাচনের ঠিক পরেই বিশ্বকাপ শুরু হয়। তখন থেকেই চলছে উন্মাদনা। প্রতিদিন শত শত জার্সি বিক্রি করছি। এত ব্যস্ত সময় কাটছে যে সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার খাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছি না।

সাম্পাইও জানান, এ বছর ব্রাজিলের নীল জার্সির চাহিদা বেশি। তার দোকানের জার্সিগুলো এরই মধ্যে ফুরিয়ে গেছে।

গত কয়েক বছরে রাজনীতির কারণে অনেকটাই বিভক্ত হয়ে পড়েছে ব্রাজিল। সেখানে পতাকা ও হলুদ জার্সির মতো জাতীয় বিষয়গুলো কট্টর ডানপন্থিদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে এখন রাস্তাঘাট আবারও হলুদ-সবুজে ছেঁয়ে গেছে। আর ফুটবলের কারণে দেশবাসীর মেজাজও অনেকটা হালকা মনে হচ্ছে।

jagonews24

মেলিসা পাউলিনো নামে এক নারী বলেন, আমি মনে করি, দেশে একটি সংস্কারের মুহূর্ত চলছে। আর তাতে আমরা খুশি। তিনি বলেন, অন্তত আমার জন্য, এটি (বিশ্বকাপ) ব্রাজিলকে সমর্থন করার জন্য অতিরিক্ত উত্তেজনা ও শক্তি নিয়ে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, হেক্সা আসছে। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম ২০ বছর হয়েছে। সুতরাং সময় এসে গেছে। তাই না?

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।