‘পদ্মবিভূষণ’ পেলেন মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু দিলীপ মহলানবিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩
ডা. দিলীপ মহলানবিশ

প্রখ্যাত বাঙালি চিকিৎসক, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের পরম বন্ধু এবং ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) আবিষ্কারক ডা. দিলীপ মহলানবিশকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ পুরস্কার দিয়েছে ভারত সরকার। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে বনগাঁ সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের লাখ লাখ শরণার্থীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানবতার অনন্য নজির সৃষ্টি করেন তিনি। চিকিৎসাক্ষেত্রে তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

দিলীপ মহলানবিশ ছাড়াও ‘পদ্মবিভূষণ’ পুরস্কার পেয়েছেন আরও চার বাঙালি। তবে এ তালিকায় নেই টালিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নাম।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলা থেকে ‘পদ্মবিভূষণ’ পুরস্কার পেয়েছেন দুজন। তারা হলেন- ধনিরাম টোটো ও মঙ্গলাকান্তি রায়। টোটো ভাষার সংরক্ষণ ও অগ্রগতির প্রতি অবদানের জন্য ধনিরাম আর বিশেষ বাদ্যযন্ত্র সারিন্দার মাধ্যমে পাখিদের সুর তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেওয়ায় পল্লিগীতি শিল্পী মঙ্গলাকান্তিকে এ সম্মান জানিয়েছে ভারত সরকার।

এছাড়া জীবন সংগ্রামে হার না মানা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নারী প্রীতিকণা গোস্বামীকে ‘পদ্মবিভূষণ’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সুই-সুতো হাতে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার উদাহরণ সৃষ্টির জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অন্যদিকে আন্দামান নিকোবরের জাড়োয়া আদিবাসীদের জন্য কাজ করায় আরেক বাঙালি চিকিৎসক রতনচন্দ্র করও পেয়েছেন ‘পদ্মবিভূষণ’ পুরস্কার।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বনগাঁর একটি শরণার্থী শিবিরে কলেরা ভয়াবহ মহামারি রূপ নেয়। তখন স্যালাইন পানির পর্যাপ্ত জোগান ছিল না। ডা. দিলীপ মহলানবিশ তখন শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে কলেরা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন।

ডা. মহলানবিশ তখন জনস হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মেডিকেল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ে গবেষণা করছেন। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির সাহায্যে ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট বা ওআরএস তৈরি করেন তিনি। শরণার্থী শিবিরের রোগীদের এই নুন-জল খাওয়াতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত সাত কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে মহলানবিশের তৈরি ওআরএস।

এক লিটার পানিতে ৬ চামচ চিনি আর হাফ চামচ নুন দিয়ে বানিয়ে ফেলা যায় ওআরএস। ১৯৭৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার এ আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দেয়।

দিলীপ মহলানবিশ ১৯৩৪ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কিশোরগঞ্জ মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে স্মাতক ডিগ্রি নেন।

ইউনেসকোর অবলুপ্তপ্রায় ভাষার তালিকায় রয়েছে টোটো ভাষা। সেই ভাষাকে সংরক্ষণ ও বর্ণমালা তৈরি করেছেন ধনিরাম। তার কোনো প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছিল না। এরপরও ৩৭ বর্ণ সম্মিলিত এ ভাষার বর্ণমালা তৈরি করেছেন তিনি। টোটো ভাষায় নিজে বইও লিখেছেন।

অন্যদিকে টানা আট দশক ধরে সারিন্দা বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণে কাজ করছেন মঙ্গলাকান্তি রায়। ১০২ বছর বয়সী পল্লিগীতি শিল্পীর অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সম্মান জানালো ভারত সরকার।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পদ্ম পুরস্কারের মূলত তিন বিভাগে ‘পদ্মবিভূষণ’, ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মশ্রী’র জন্য বেসামরিক ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করে।

এ বছর শিল্প, সমাজকর্ম, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও শিল্প, চিকিৎসা, সাহিত্য, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সিভিল সার্ভিসে বিশেষ অবদানের জন্য ড. মহলানবিশসহ ছয়জনকে ‘পদ্মবিভূষণ’, নয়জনকে ‘পদ্মভূষণ’ এবং ৯১ জনকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৯ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া বিদেশি ক্যাটাগরি থেকে দুজন এবং সাতজন পেয়েছেন মরণোত্তর পুরস্কার।

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এসব পুরস্কার প্রদান করেন। প্রতি বছর মার্চ বা এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি ভবনে এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন হয়ে থাকে।

এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।