ঈদুল আজহা নিয়ে কী ভাবছেন ক্যারিয়ার সংগঠকরা

বেনজির আবরার
বেনজির আবরার বেনজির আবরার , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ২১ জুলাই ২০২১

বাবা-মাকে গ্রামে রেখে ঢাকায় ঈদ করছেন অনেকেই। কারণ করোনা মহামারিতে পরিবারকে সুস্থ রাখতেই ঢাকায় থেকে যাওয়া। তারপরও ঢাকার ঈদটাই তাদের কেমন যাচ্ছে, নতুন অনুভূতিটাই বা কেমন? আমরা কথা বলার চেষ্টা করেছি এবার ঢাকায় ঈদ করা কয়েকজন ক্যারিয়ার বিষয়ক সংগঠকের সঙ্গে—

নিউজপেপার অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি লাব্বী আহসান বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার প্রথম ঈদ কাটছে ঢাকায়। বাবা-মাকে ছাড়া ঈদ। এবছর ঈদটা একেবারেই অন্যরকম। নেই চারদিকে সোরগোল। কেউ কারও খোঁজও রাখছে না। ঢাকা শহরে সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, এ শহরের মানুষেরা প্রিয় মানুষদের খোঁজ রাখে তো?

ঢাকার ঈদের সাথে যান্ত্রিকতাই মিশে আছে অধিক। এই ঈদেও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। বিকেল অবধি কাজ করে হয়তো সন্ধ্যায় বসবে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা। কেউবা আবার বাইকে চেপে দাপিয়ে বেড়াবে পুরো ঢাকা শহর। এ শহরের অলিগলিতে নতুন নতুন গল্প রচিত হয় প্রতি মুহূর্তে। এরকমই কিছু গল্পের সাক্ষী হতে চাই এবারের ঈদে। ভালো-মন্দে ঢাকার ঈদ কাটুক সবার প্রশান্তিতে।’

জেনারেল নলেজ অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত বলেন, ‘আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে যান্ত্রিক শহর ঢাকায়। ঢাকায় বেড়ে উঠলেও প্রতিবছর ঈদে যাওয়া হতো গ্রামের বাড়িতে। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। আমাদের যৌথ পরিবার ছিল। তাই সবাই বাড়িতে গেলেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করতো সবার মাঝে। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর মধ্যে একটি।

ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়িতে সব প্রিয় মানুষদের একবারে দেখতে পারা। বিগত কয়েকবছর যাবত দেখা হয় না সে দৃশ্য। এবারের ঈদ কাটবে যান্ত্রিক শহরে। এ শহরে ঈদ আমার কখনোই ভালো লাগে না। গ্রামের সেই মাটির রাস্তায় হেঁটে হেঁটে পরিবারের সবার সাথে নামাজ পড়তে যাওয়ার দিনগুলো চাই। ঈদের দিন সকালে পুকুরে সবার সাথে গোসল করতে চাই। নামাজ শেষে একসঙ্গে খেতে বসতে চাই। শহরের ঈদ কাটে ঘরবন্দি। শুধু রেস্তোরাঁয় গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে উদযাপন।’

মেন্টোরিয়ানের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কো-অর্ডিনেটর সুমাইয়া জামান মীম বলেন, ‘ঢাকায় ঈদ অনেকের কাছেই পানসে মনে হতে পারে! যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমার গ্রামে ঈদ করার অভিজ্ঞতা নেই। আমার বেশিরভাগ ঈদ কেটেছে ঢাকায় নানুবাড়িতে। ছোটবেলার ঈদগুলোর মজা ছিল অন্যরকম। চাঁদ দেখা হোক কিংবা কুরবানির গরু দেখা হোক, দুটো নিয়ে একধরনের আনন্দ কাজ করতো। কুরবানির গরুটা কী রঙের হবে, শান্ত না-কি রাগী, তারপর কত কী! কত জল্পনা-কল্পনা। সারাদিন সবার কাছ থেকে সালামি সংগ্রহ করা, মা-খালাদের হাতের মজার মজার খাবার আর দিনশেষে সবাই মিলে ইদের নাটক দেখা, কত সুন্দর ছিল দিনগুলো!

আমাদের এবারের ঈদের আমেজটি অন্যরকম ভাবেই শুরু হয়েছে। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে ৫৪টা পরিবার থাকি। সব মিলিয়ে সবাই কুরবানি দিচ্ছেন। বাসার গ্যারেজে ৩০টির উপরে গরু এসেছে, খাসি এসেছে ৪টি। পুরো বাসার গ্যারেজটাকে একেবারে হাটের মত করে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছে। যেন ছোটখাটো গরুর হাট। বাচ্চাগুলোর আনন্দ যেন মাটিতে পড়ে না। সবাই গরুকে খাবার দিচ্ছে, ছবি তুলছে, সারাবাড়ি যেন ম ম করছে। একে অপরকে গরু কেনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, এ যেন অদ্ভুত এক মিলনমেলা। অনেক বছর পর যেন আবার ছোটবেলার মত ইদের আমেজ ফিরে পেলাম।

ঈদের দিন সাধারণত পশু কুরবানির পর সব কাজ শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় আরেক ধরনের দায়িত্ব। আশেপাশের আত্মীয়দের বাসায় মাংস নিয়ে যাওয়া, প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া, গরিব-দুঃখীর সাহায্য করা! এই একটি উৎসবই যেন আমাদের মধ্যকার আন্তরিকতা বৃদ্ধিতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এই উৎসবের মাধ্যমেই যেন আমরা কে ধনী, কে গরিব ভুলে গিয়ে এক কাতারে নামাজ পড়ি, আনন্দ ভাগাভাগি করি। গ্রামের ঈদ আর ঢাকার ঈদের মধ্যে অল্প পার্থক্য থাকলেও উৎসবের মেসেজটা কিন্তু একই। হয়তো আনন্দ প্রকাশের ধরনটা আলাদা।’

হেল্প দ্য ফিউচারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাইফুল্লাহ্ খালেদ বলেন, ‘চারদিকে বেশিরভাগ মানুষ করোনা আক্রান্ত। এমন দিনে ঈদ নিয়ে কী বলা যেতে পারে, কোন কিছু চিন্তা করতে পারছি না। আসলে ভেতর থেকেই সার্বিকভাবে সায় দিচ্ছে না। ঈদ অবশ্যই খুশির ব্যাপার, আমাদের ধর্মীয় উৎসব। এমন করোনার সময়টাতে আমার মনে হয় নিজেদের পাশাপাশি কাছের মানুষের কথা চিন্তা করে যথাসম্ভব সচেতন থাকা উচিত। যদিও কুরবানির ঈদের আনন্দটা সব সময়ের মত অন্যরকম হয়ে থাকে। হাটে যাওয়া, গরু দেখেশুনে পছন্দ করা, তা আবার খুব যত্নসহকারে বাসায় নিয়ে আসা। সব মিলিয়ে একটি অন্য ধরনের আমেজ থাকে এ ঈদে। তবে ঈদের দিনের সকালে গরু কুরবানি করে পরিবারের সবাই একদিনের জন্য কসাই বনে যাওয়া যেন ঈদের আনন্দটা আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও গ্রামের ঈদ থেকে ঢাকার ঈদ অনেকটা ভিন্ন। বলা যায়, একেবারে অন্যরকম একটা ঈদ হয়। তারপরও ঈদ তো ঈদই। করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে হয়তো দেখা বা আনন্দ আড্ডা একটু কম হতে পারে।’

এসইউ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]