Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ | ১২ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় তিন চ্যানেল বন্ধের রুল শুনানি আজ


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:১৫ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৬, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৩২ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৬, মঙ্গলবার
ভারতীয় তিন চ্যানেল বন্ধের রুল শুনানি আজ

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনায় ভারতের স্টার প্লাস, স্টার জলসা ও জি বাংলা টিভি চ্যানেল বন্ধে উচ্চ আদালতের জারি করা রুল শুনানিতে উঠছে প্রায় দুই বছর পর।

আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া।

এর আগে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার প্লাস, স্টার জলসা ও জি বাংলায় প্রচারিত অনুষ্ঠান দেখে বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের আত্মহত্যা, পরকিয়া, তালাক এবং সংসার ভাঙার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

পরে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি রিট দায়ের করেন। এতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, যাদু ব্রডব্যান্ডের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১৯ অক্টোবর ওই তিন টিভি চ্যানেল বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। ওই রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আজ হাইকোর্টের উক্ত বেঞ্চে মামলাটি (কজলিস্ট) কার্যতালিকায়  রয়েছে।

জানা গেছে, ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে আত্মহত্যার মতো অপরাধপ্রবণতাও। কয়েক বছর আগেই ভারতীয় সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নামে চালু হওয়া পোশাক কেনার প্রতিযোগিতায় নামে অনেকে। অভিভাবকদের কাছ থেকে এসব বাহারি নামের পোশাক না পেয়ে অভিমানে আত্মহত্যাও করেছেন কেউ কেউ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ভারতীয় সিরিয়াল ‘কিরণমালা’র নামানুসারে তৈরি ‘কিরণমালা’ জামা না পেয়ে গত বছর আত্মহত্যা করে তিন তরুণী। এরা হলো মাদারীপুরের কালকিনির মিনারা (২৭), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের তাছলিমা আক্তার (১২) ও বগুড়ার শেরপুরে সাবিনা খাতুন (১৪)।

এর আগে ভারতীয় সিরিয়াল ‘বোঝে না সে বোঝে না’ নাটকের পাখি চরিত্রের ‘পাখি জামা’ না পেয়ে ২০১৪ সালে ঈদে আত্মহত্যা করেছে অন্তত ১০ জন। তারা হলো নওগাঁর মিম আক্তার (১৪), গাইবান্ধার নূর জাহান (১০), দিনাজপুরের জেসমিন আরা (১৭), হবিগঞ্জের পাখি (১৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জের হালিমা (১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফুলমালা (১৫), চুয়াডাঙ্গার শিলা খাতুন (১৫) এবং রাজধানীর গুলশানের জেরিন ইসলাম বৃষ্টি (১৭)।

এছাড়া স্ত্রীকে পাখি জামা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেন শেরপুরের শাহিন নামের এক যুবক। অন্যদিকে, মেয়ের জামা সংগ্রহ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন কুষ্টিয়ায় আলেয়া বেগম নামের এক গৃহবধূ। আর স্বামী পাখি জামা কিনে না দেয়ায় তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান খুলনার শারমিন আক্তার।

তার আগে শিশুদের জন্য ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত কার্টুন ‘ডোরেমন’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নিয়ে আলোচনা হয় জাতীয় সংসদেও। পরে শিশুদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট এবং তাদের মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে তা বন্ধে বিজ্ঞপ্তি দেয় সরকার।

এদিকে, এ বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ভারতীয় এই তিন টিভি চ্যানেলের প্রভাবে বাংলাদেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতিও।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের কেবল নেটওয়ার্ক আইনের কতিপয় ধারা লঙ্ঘনের মাধ্যমে এসব চ্যানেল বাংলাদেশে প্রচারিত হচ্ছে, যা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আর এসব চ্যানেল থেকে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, যা ২০০৬ সালের কেবল নেটওয়ার্ক আইনের ১৩ ধারার পরিপন্থী।

এছাড়া এসব চ্যানেলের সিরিয়ালে অভিনয়কারী বিভিন্ন পোশাকে আকৃষ্ট হয়ে অনেক তরুণ-তরুণী অপসংস্কৃতিতে ঝুঁকে পড়ছে। তাই আমরা আদালতে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবো।

তিনি বলেন, গত বছর থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালে ভারতীয় সব চ্যানেল বন্ধ রয়েছে। আশা করি, আদালত আমাদের দেশেও এসব চ্যানেল বন্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

এফএইচ/বিএ

আপনার মন্তব্য লিখুন...