Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ | ১২ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

উপ-নির্বাচনে প্রার্থিতা পেতে কাদের সিদ্দিকীর আপিল শুনানি শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
উপ-নির্বাচনে প্রার্থিতা পেতে কাদের সিদ্দিকীর আপিল শুনানি শুরু

জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর করা আপিল আবেদন শুনানি শুরু হয়েছে।
    
আজ (বুধবার) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয় বলে জাগো নিউজকে জানান নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ইয়াসিন খান।

আদালতে আজ কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। অপরদিকে অগ্রনী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং ইলেকশন কমিশনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ইয়াসিন খান।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাদের সিদ্দিকী আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত। এছাড়া টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বৈধ নয় বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীর আনা আপিল আবেদন দুই সপ্তাহের জন্য (স্ট্যান্ডওভার) মূলতবি করেন। একই আদালত।

এর আগে একই বছর ৪ ফেব্রুয়ারি কাদের সিদ্দিকীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জারি করা রুল ও ‍রিট খারিজ করে রায় দেন। রায়ে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ নয় বলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন আদালত। পরে ওই রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করেন কাদের সিদ্দিকী।  আজ ওই আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বক্তব্য দেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। এছাড়া মন্ত্রিসভা থেকেও তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তার আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সে মোতাবেক ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকী। তবে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন কাদের সিদ্দিকীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছে, কাদের সিদ্দিকীর প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা প্রকৌশলী সংস্থার নামে অগ্রণী ব্যাংকের ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। কাদের সিদ্দিকী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং নাসরিন কাদের সিদ্দিকী পরিচালক। ঋণখেলাপি হওয়ায় তাদের দুই জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
 
এফএইচ/এমএমজেড/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...