Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | ১৬ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মৃত ব্যক্তিকে পলাতক দেখিয়ে বিচার : ট্রাইব্যুনালের ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:২৫ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
মৃত ব্যক্তিকে পলাতক দেখিয়ে বিচার : ট্রাইব্যুনালের ক্ষোভ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক ঘোষণা করে বিচার শুরু করায় প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আসামি মারা যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রসিকিউশন টিমকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের অান্তর্জাতিক অপরাধ এই আদেশ দেন। এসময় আদালতে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, সৈয়দ হায়দার আলী, ঋষিকেষ সাহা, মো. মোখলেসুর রহমান বাদল, সায়েদুল হক সুমন, শেখ মুসফেক কবীর, জাহিদ ইমাম, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি, উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রসিকিউটর হায়দার আলী সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না। এটা আইন বিরুদ্ধকাজ। তিনি বলেন, ‘আদালত আমাদের মৌখিকভাবে এ বিষয়ে যাদের গাফিলতি আছে তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

অপরদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম বলেন, মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর বিষয় ট্রাইব্যুনাল আমাকেও খতিয়ে দেখতে বলেছেন।’

এই মামলায় তিনজন আসামী ছিল, আসামীদের একজন মারা গেছেন, আসামি  রিয়াজ উদ্দিন ফকির  কারাগারে  আছেন। অপর আসামী পলাতক দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম চলছিল আসামী ওয়াজ উদ্দিনের।

এর আগে বেসরকারি চ্যানেল সময় টিভিতে ‘মৃত ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে’ শিরোনামে একটি  রিপোর্ট প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি আজ ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পর ট্রাইব্যুনাল ক্ষোভ দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ৭ মাস আগেই মারা গেছেন তিনি। একাত্তরের হত্যা, গণহত্যা মামলার আসামি ওয়াজ উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের অক্টোবরে তদন্ত শুরু করে,তদন্ত সংস্থা। শুরু থেকেই পলাতক দেখিয়ে তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়। গত ১১ ডিসেম্বর ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক ঘোষণা করে, তারপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদে  বলা হয়, প্রায় ৮ মাস আগে ২০১৬ সালের ৭ মে ওয়াজ উদ্দিন মারা গেছেন। মৃত্যুর ৯ দিন পর তাকে আদালতে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির আদেশ আসে ট্রাইব্যুনাল থেকে।পরে তাকে হাজির করতে দুইটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এই মামলার অপর আসামি  রিয়াজ উদ্দিন ফকির  কারাগারে  আছেন।

আসামির ভাই জানান, আমার বড় ভাই ওয়াজ উদ্দিন সাহেব মারা গেছে। তার নামে যুদ্ধাপরাধের মামলা আছে শুনেছি। এখন কি অবস্থায় আছে এটা আমরা জানি না। মারা যাওয়ার দুই দিন পর ট্রাইব্যুনাল থেকে আসামীকে আদালতে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আদেশ দেয়া হয়। সাবেক আইনমন্ত্রীর ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের মতে প্রসিকউশনের তথ্যের ভিত্তিতে এমন আদেশ। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর এবং তদন্ত কর্মকর্তার দায় রয়েছে।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, তদন্ত যারা করেছে তাদের গাফিলতি এবং সেই মৃত ব্যক্তির পক্ষে যদি রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে সেটাও গাফিলতি। যদিও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা দায় চাপালেন পুলিশের ওপর। আর পুলিশ বলছে,মৃত্যুর পরই অবহিত করে চিঠি দেয়ার কথা।প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের করার কিছু নাই। স্থানীয় থানা যদি তথ্য না দেয় তাহলে আমাদের জানার সুযোগ নেই।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  বলেন, আসামি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের।

মামলার বিবরণ:
২১ সেপ্টেম্বর এই মামলায় দু`জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়।দুই আসামির মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন ফকির (৬৫) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।আরেক আসামি ওয়াজ উদ্দিন (৭০) পলাতক। এর আগে এক আসামি আমজাত আলী (৮৮) গ্রেফতারের পর দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার দ্বায়িত্বে রয়েছেন, প্রসিকিউটর ঋষিকেষ সাহা ও শেখ মোসফেক কবির।

তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর তদন্ত শুরু করেন। ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ এনে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ গ্রাম থেকে আমজাদ হোসেন ও ভালুকজান গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১২ আগস্ট তাদেরকে ঢাকায় নেয়ার পথে গাজীপুরে পুলিশের পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই আসামি ও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদ হোসেন ওরফে আমজাদ হাজী (৯০) মারা যান।

এফএইচ/এমআরএম/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...