ট্রাইব্যুনালে চার সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭
ট্রাইব্যুনালে চার সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চারজন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ করেছেন।

মামলার ১৪তম সাক্ষী গীতারানি এবং ১৫তম সাক্ষী ঝন্টু ঋষি, ১৬তম সাক্ষী জীবন ঋষি ও ১৭তম সাক্ষী ভানু ঋষি তাদের জবাবন্দি পেশ করেছেন।

১৪তম সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, রিয়াজ উদ্দিন ফকির আর্মিদের নিয়ে আমাদের গ্রামে আসে। আসামি আমাকে ধরে বিহারিদের হাতে তুলে দেয়। আমার সঙ্গে বাসন্তী ঋষি ও নির্মলা ঋষিকেও ধরে নিয়ে পাক আর্মিদের হাতে তুলে দেয়। আমাদের ধরে নিয়ে বিহারিরা নাইলা ক্ষেতে মানহানি করে। পরে তারা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। গ্রামের আটজনকে ধরে নিয়ে ভালুকজান ব্রিজের পশ্চিম পাশে গুলি করে হত্যা করে।

জবানবন্দি পেশ করার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন। মামলায় পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করার জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর হৃষিকেশ সাহা, মো. সুলতান মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা চমন, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি, আবুল কালাম প্রমুখ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন সৈয়দ মিজানুর রহমান ও মুজাহিদুর ইসলাম।

সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম গীতারানি ঋষি। আমার আনুমানিক বয়স ৬৪ বছর। আমার বাবার বাড়ির ঠিকানা গ্রাম ঋষিপাড়া , থান- ফুলবাড়িয়া, জেলা- ময়মনসিংহ। একাত্তর সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আামি আমার বাবার বাড়িতে ছিলাম।

একাত্তরের কার্তিক মাসের ১৮ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আসামি রিয়াজ উদ্দিন ফকির তার সঙ্গীয় রাজাকার ও পাকিস্তান আর্মিদের নিয়ে ঋষিপাড়ায় আসে। রিয়াজ উদ্দিন ফকির আমাকে ধরে নিয়ে বিহারিদের হাতে তুলে দেয়। আমার সঙ্গে বাসন্তী ঋষি ও নির্মলা ঋষিকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দেয়। আমাদের ধরে নিয়ে নাইলা (পাট) ক্ষেতে মানহানি করে। বাসন্তী ও নির্মলাকেও মানহানি করা হয়।

আসামি রিয়াজ উদ্দিন ফকির রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিদের নিয়ে আমাদের বাড়ি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর গ্রামের ৮ জনকে ধরে নিয়ে ভালুকজান ব্রিজের পশ্চিম পাশে গুলি করে হত্যা করে। ওই আটজনের মধ্যে গগেন ঋষি, জ্ঞানেন ঋষি, উমেশ ঋষি, মহেন্দ্র ঋষি, মংলা ঋষি, দিনেশ ঋষি ছিল। নিহতরা আমার প্রতিবেশী। ছোটবেলা থেকে আসামি রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে দেখেছি। সে জন্য তাকে আগে থেকেই চিনতাম।

এফএইচ/জেডএ/বিএ