লেকহেডের সবার তথ্য সুপ্রিম কোর্টে, ফের শুনানি রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৭:৩৭ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭
লেকহেডের সবার তথ্য সুপ্রিম কোর্টে, ফের শুনানি রোববার

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বন্ধ থাকা রাজধানীর গুলশান ও ধানমন্ডির লেকহেড গ্রামার স্কুলের দু’টি শাখা খুলে দেয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

লেকহেড স্কুলের ম্যানেজমেন্ট ও শিক্ষক-শিক্ষিকা কেউ জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না- সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিবেদন পৌঁছানোর পর প্রতিবেদনগুলোর ওপর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে লেকহেড স্কুলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আখতার ইমাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু। তাদের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, লেকহেড গ্রামার স্কুলের বর্তমান কমিটি ও শিক্ষকরা জঙ্গিবাদে জড়িত কি না সে বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমরা তা পড়ে দেখার সময় পাইনি। এজন্য সময় প্রয়োজন।

এদিকে লেকহেড গ্রামার স্কুলের পক্ষে ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ওই স্কুলের শিক্ষকদের ও কমিটির সদস্যদের বিস্তারিত ঠিকানা আদালতে দাখিল করেছেন। এ ছাড়া ওই স্কুলে কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তাও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

গত ১৪ নভেম্বর লেকহেড গ্রামার স্কুলের ধানমন্ডি ও গুলশান শাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে লেকহেড গ্রামার স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজমেন্ট) ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যাবতীয় তথ্য সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এই তথ্য উপস্থাপন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের বিষয়ে রাশনা ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের কেউ জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি-না, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ১৯ নভেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেছেন, রিপোর্টটি এসে পৌঁছেছে। তারা এটা দেখার সুযোগ পাননি। দেখে এ বিষয়ে শুনানি করবেন। তখন আদালত তাদের একদিন সময় দেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে স্কুলে কর্মরত যারা যারা আছেন, স্কুলের ধানমন্ডি ও গুলশান শাখার শিক্ষক-শিক্ষিকা-ম্যানেজমেন্টের সমন্বিত একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছি। যেখানে তাদের নাম ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), যোগাযোগের বিস্তারিত—সব কিছু দিয়েছি। যে তদন্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য। যদি কারও নাম আসে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। স্কুলের বিরুদ্ধে নয়।

এর আগে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ নভেম্বর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই স্কুলের ধানমন্ডি ও গুলশানের শাখা খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান।

তার আগে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন চেম্বার জজ আদালত। তারপর ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ আপিল আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে লেকহেড স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউ জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত কি না- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীকে একটি প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে দিতে বলা হয়েছে। সেদিন আপিল বিভাগের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করার জন্যও বলেছিলেন।

গত ৬ নভেম্বর ধানমন্ডি ও গুলশানের দু’টি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক রেজোয়ান হারুন সম্প্রতি লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে লাপাত্তা হয়ে যান। এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। রেজোয়ান হারুনের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও মদদের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে রেজোয়ান হারুনকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেয়া হয়। ২০০৬ সালে ধানমন্ডির ৬/এ সড়কে প্রতিষ্ঠিত হয় লেকহেড গ্রামার স্কুল।

এফএইচ/এনএফ/পিআর