মহেশখালীর ১৭ জনের বিষয়ে আদেশ ২২ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
মহেশখালীর ১৭ জনের বিষয়ে আদেশ ২২ জানুয়ারি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের মহেশখালীর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রশিদ (বিএ) মিয়াসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ২২ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্র ও আসামি উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রোববার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ও জাহিদ ইমাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানান, আজ নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গঠন করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আসামিদের যাতে অভিযোগ থেকে বাদ দেয়া হয় সে যু্ক্তি আমরা তুলে ধরেছি। আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনানি করে অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা- সে বিষয়ে আদেশ দেয়ার জন্য আগামী ২২ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন।

মামলায় অপর আসামিরা হলেন- সালামত উল্লাহ খান, মৌলভী জকরিয়া শিকদার (৭৮), অলি আহমদ (৫৮), মো. জালাল উদ্দিন (৬৩), মোলভী নুরুল ইসলাম (৬১), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাবুল (৬৩), মমতাজ আহম্মদ (৬০), হাবিবুর রহমান (৭০), মোলভী আমজাদ আলী (৭০), মৌলভী আব্দুল মজিদ (৮৫), বাদশা মিয়া (৭৩), ওসমান গণি (৬১), আব্দুল শুক্কুর (৬৫), মোলভী সামসুদ্দোহা (৮২), মো. জাকারিয়া (৫৮), মো. জিন্নাহ ওরফে জিন্নাত আলী (৫৮), মোলভী জালাল (৭৫) ও আব্দুল আজিজ (৬৮)।

আসামি এসআই সামসুল হকের ঠিকানা না পাওয়ায় এবং আব্দুল মজিদ মাস্টার মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। মামলায় ১৯ জন আসামির মধ্যে মারা যাওয়ায় আরও দুই আাসামির নাম বাদ দিয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আদালতে দাখিল করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তর করাসহ মানবতাবিরোধী ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার ৯৪টি, নারী নির্যাতন অসংখ্য এবং লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। মামলায় মোট ১২৬ জন সাক্ষী রয়েছেন।

প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম জানান, আসামিদের মধ্যে সালামত উল্লাহ খানসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ট্রাইব্যুনালে যতগুলো মামলা এসেছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় মামলা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. নূরুল ইসলাম ২০১৪ সালের ১২ মে থেকে ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তদন্ত শেষ করেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর