পিলখানা ট্র্যাজেডি : রায়ের কপি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:০১ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

পিলখানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (কপি) পেলেই এ আপিল আবেদন দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে। তাই হাইকোর্টে ঘোষণা করা রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপিল দায়েরের জন্য অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড নিয়োগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল জানান, মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামি হাইকোর্টের রায়ে বেকসুর খালাস পেয়েছেন তাদের দণ্ড বহাল চেয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করেছি। রায়ের অনুলিপি পেলেই খালাপ্রাপ্তদের বিষয়ে যথাসময়ে আপিল আবেদন দায়ের করা হবে।

গত ২৬ নভেম্বর বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আদালত এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়।

ওই রায়ে নিম্ন আদালতের দেয়া ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ বিডিআর জওয়ানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আর ১৩ জনের মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রেখে আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ খালাস দেয়া হয় ১২ জনকে। মোট ১৬ জন আসামি খালাস পায় হাইকোর্টের দেয়া রায়ে। ওই ১৬ জনের বিরুদ্ধে আপিল করবেন রাষ্ট্রপক্ষ।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছিলেন, অপরাধের ইতিহাসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড এক নজিরবিহীন ঘটনা। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ বেসামরিক নাগরিককে বিডিআর বিদ্রোহীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে যে জঘন্য অপরাধ করেছে তা খুবই মর্মান্তিক, বিভীষিকাময়, নারকীয় ও ভয়ঙ্কর। এ অপরাধ সভ্য সমাজের মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের (জওয়ানদের) অপরাধ বর্বরতা ও সভ্যতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেছিলেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র ছিল। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে ঘটেছিল ওই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। এদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল ১৬১ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছিলেন আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারিক আদালতে খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন আসামি। এ আদালতে সাজা হয়েছিল মোট ৫৬৮ জনের।

এফএইচ/জেডএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :