চারদলীয় জোট ২১ আগস্ট হামলায় মদদ দিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৬ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১১:৩৩ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭
চারদলীয় জোট ২১ আগস্ট হামলায় মদদ দিয়েছে

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে জনসভা ছিল সাধারণ মানুষের। এ জনসভায় হামলা চালানোর জন্য চারদলীয় জোট সরকার মদদ দিয়েছিল।

মঙ্গলবার ঢাকার ১নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনে এসব তথ্য দেন কৌঁসুলি সৈয়দ রেজানুর রহমান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী একরামুদ্দিন শ্যামল।

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় টিকে থানার জন্য এ হামলায় মদদ দেয়। এমন হামলার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই।

এদিন মামলার সাক্ষীদের ১৬২ থেকে ২০৪ জনের সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় আগামীকাল বুধবার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

ইতোমধ্যে আলোচিত এ মামলায় ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এছাড়া ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

২০০৮ সালের ১১ জুন মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির।
২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্তের ভার পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন।

আসামিদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং অন্য মামলায় জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এ মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯ জন। তাদের মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। এছাড়া জামিনে আটজন ও কারাগারে রয়েছেন ২৩ জন।

জেএ/এসআর/আইআই