শিশু নির্যাতন করে কেউ পার পাবে না : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১০ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭
ফাইল ছবি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শিশু নির্যাতন করে কেউ পার পাবে না। শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়নে ও শিশু অধিকার নিশ্চিতে যা যা করা প্রয়োজন সরকার সবই করবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্স আয়োজিত ‘চাইল্ড পার্লামেন্ট অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

‘শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাইল্ড পার্লামেন্টের ১৫তম অধিবেশনে তিনি আরও বলেন, শিশুদেরকে সমতা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। তাই শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়নে ও শিশু অধিকার নিশ্চিতে যা যা করা প্রয়োজন সরকার সবই করবে।

তিনি বলেন, দেশে অনেক শিশু ও তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম, বাল্যবিবাহ, অপুষ্টি, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, সহিংসতা ও নির্যাতনসহ নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যা সম্পর্কে সরকার অবগত। এ অবস্থার উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টা সর্বদা আন্তরিক ও টেকসই।

আইনমন্ত্রী বলেন, শিশু অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত দুটি চুক্তি (শিশু অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন-UNCRC এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক কনভেনশন- CRPD) অনুস্বাক্ষরকারী প্রথমসারির কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ।

UNCRC এবং CRPD তে অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের ওপর। এ দায়িত্ব পালনে যে ধরনের পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেয়া প্রয়োজন তা নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন, বিধি ও নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং শিশুর প্রতি সহিংসতা দমন বিষয়ক আইনগুলোকে আরও বেশি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের অঙ্গিকারের ধারাবাহিকতায় বিগত দুই বছরের মত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেও শিশু বাজেট ও শিশু কেন্দ্রিক বাজেট বিশ্লেষণ প্রতিবেদন : ‘বিকশিত শিশু : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ’ প্রকাশ করা হয়েছে।

চলতি অর্থ বছরে ১৩টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুকূলে ৫৬ হাজার কোটি টাকার শিশু কেন্দ্রিক বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের চেয়ে ১৪.৮ শতাংশ বেশি।

শিশু হত্যা ও সহিংসতায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি আরও ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং রূপকল্প ও কৌশলগত পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার সব শিশুর জন্য নিরাপদ আবাস, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শিশু উন্নয়ন, শিশুদের অধিকার বাস্তবায়ন ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কতগুলো বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন মনে করে তিনি বলেন, শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পিতা-মাতা, শিশু ও তার চারপাশের মানুষকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া পারিবারিক নির্যাতনের ফলে শিশুর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজের সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।

অধিবেশনে দেশের ৬৪ জেলা হতে আগত চাইল্ড পার্লামেন্টারিয়ান এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এইউএ/এফএইচ/এএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :